নয়া জামানা, কলকাতা : দেশের মাটিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিদেশের অতিথিদের সামনে জামা খুলে প্রতিবাদ! যুব কংগ্রেসের এই ‘উন্মুক্ত’ বিক্ষোভ কর্মসূচির তীব্র নিন্দা করল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিদেশের প্রতিনিধিদের সামনে এই আচরণে দেশের সম্মানহানি হয়েছে বলে সরব হয়েছেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিষয়টিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। লোকসভায় কংগ্রেসের জোটশরিক হলেও এই ইস্যুতে হাত শিবিরের সঙ্গে কোনো আপস করতে রাজি নয় ঘাসফুল শিবির। বাবুলের সেই কড়া বার্তা তৃণমূলের সরকারি হ্যান্ডল থেকেও শেয়ার করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হয়েছে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন। বিশ্বের নামী প্রযুক্তিবিদ ও রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে শুক্রবার সেখানে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। দুপুরের দিকে অধিবেশন চলাকালীন প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে ঢুকে পড়েন যুব কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য। আচমকাই তাঁরা গায়ের পোশাক খুলে ফেলেন। হাতে জামা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য-সমঝোতার বিরোধিতায় স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দিল্লি পুলিশ দ্রুত বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করে। এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে রবিবার সমাজমাধ্যমে সরব হন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি লেখেন, ‘দিল্লির এআই সম্মেলনে যুব কংগ্রেসের সদস্যদের খালি গায়ে বিক্ষোভ দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীরা যেখানে আছেন, সেখানে এই ধরনের আচরণ জাতীয় অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দেয়। গণতন্ত্রে সকলেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্বশীলও হতে হবে।’ মন্ত্রীর মতে, দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে দেশের মর্যাদার কথা ভাবা উচিত ছিল কংগ্রেসের। বাবুল আরও মনে করেন, এই কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মাথা হেঁট হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘সারা বিশ্বের সামনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সময়ে দলীয় নাট্যকারদের আরও পরিণতমনস্ক হতে হবে, সংযম দেখাতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য তো থাকবেই, কিন্তু তার জন্য দেশের সম্মান, মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা চলে না।’ তৃণমূলের এই প্রকাশ্য সমালোচনা ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। শুক্রবার যখন এই বিক্ষোভ চলছিল, তখন হলের ভেতরে বিভিন্ন সংস্থার প্রধানেরা ভাষণ দিচ্ছিলেন। স্লোগানের শব্দ শুনে অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে জানা যায়, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় এই প্রতিবাদ। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার ইনদওরে বিজেপি যুব মোর্চা ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সেখানে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন জখম হন। দায়ের হয়েছে একাধিক এফআইআর। আসলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই চুক্তি দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। সেই ইস্যুকে বিশ্ববাসীর নজরে আনতেই দিল্লির সম্মেলনে এই প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল কংগ্রেসের। কিন্তু তৃণমূলের অবস্থান ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বা নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ, একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়েছে। এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ সেই ফাটলকে আরও চওড়া করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন-
অধীরের হাত ধরে ঘর ওয়াপসি সুফিয়ানের, কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধিতে পাল্টা কটাক্ষ তৃণমূলের