নয়া জামানা , জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান জল্পেশ মন্দির-কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জল্পেশ মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও শিবচতুর্দশী উপলক্ষে মন্দিরে পুজো দিয়ে মেলায় যোগ দিতে ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার ভক্ত। বিশেষ করে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা বংশপরম্পরায় চলে আসা রীতি মেনে মেলা প্রাঙ্গণেই তাবু টাঙিয়ে বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।প্রথমে মন্দিরে পুজো দিয়ে তৈরি করা চিড়া প্রসাদ গ্রহণ করেন ভক্তরা। এরপর শুরু হয় পারিবারিক বনভোজন। মেলা চত্বরে নিজেরাই রান্না করেন ভাত, ডাল, সবজি ও নিরামিষ পদ। সারারাত মেলা প্রাঙ্গণে রান্না ও খাওয়া-দাওয়ার এই প্রথা বহু প্রাচীন। রাতভর চলে মেলা ঘোরা, কেনাকাটা এবং সাংস্কৃতিক মঞ্চে ভাওয়াইয়া সহ নানা লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ। অনেকেই মেলার মাঠেই রাত্রিযাপন করেন। ভোরে আবার নতুন করে রান্না করে সকালের খাওয়ার আয়োজন করেন পরিবারগুলি।শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন এই মেলায় যোগ দিতে আসছেন। আগে একসময় গরুর গাড়িতে চড়ে বাবা-ঠাকুরদাদের হাত ধরে মেলায় আসার স্মৃতি এখনও অনেকের মনে জাগ্রত। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে, কেউ বাসে, আবার কেউ টোটো করে মেলায় পৌঁছাচ্ছেন।মেলায় আগতদের কথায়, এই রীতি আমাদের বংশপরম্পরায় চলে আসছে। আগামীতেও আমরা এই প্রথা বজায় রাখব। ঐতিহ্য, আস্থা ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে জল্পেশ মেলা।
আরও পড়ুন-
উটেরও এবার পাসপোর্ট! ভিশন ২০৩০–এ পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত