ভরত বেরা, নয়া জামানা, ঝাড়গ্রাম: সোমবার সকালে আচমকা মৌমাছির হামলায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে একটি বড় গাছে থাকা বিশাল মৌচাক থেকে হঠাৎই নেমে আসে মৌমাছির ঝাঁক। মুহূর্তের মধ্যে তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আউটডোরে আসা রোগী, পরিজন ও কর্মীদের উপর আক্রমণ শুরু করে।
ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে কেউ বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক মানুষ হুলের শিকার হন। আহত হন এক চিকিৎসক, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং একাধিক রোগীর আত্মীয়। হুলের যন্ত্রণা এড়াতে অনেকে দৌড়ে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা হাসপাতাল চত্বর বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। আউটডোর পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন দপ্তর ও দমকল বাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। তবে সঙ্গে সঙ্গে মৌচাক সরানো সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়। মৌমাছির ঝাঁক ছত্রভঙ্গ করতে সময় লাগে, ফলে দীর্ঘক্ষণ আতঙ্কের পরিবেশ বজায় থাকে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আউটডোর বিভাগের মূল গেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে চিকিৎসা করাতে আসা বহু রোগী সমস্যায় পড়েন। অনেকেই বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপদ উপায়ে মৌচাক অপসারণের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আউটডোর পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এত বড় মৌচাক তৈরি হলেও আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন-
লোকালয়ে হরিণের দৌড়! বসন্তের সকালে বাসুডিতে চাঞ্চল্য, তৎপর বনদপ্তর