ইযামুদ্দিন সাহাজী, নয়া জামানা, ভাঙড়: ভাঙড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতা খাইরুল ইসলামের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নেয়, যখন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট-এর মধ্যে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে সাংগঠনিক কাজে পোলেরহাট থানার দক্ষিণ গাজিপুর এলাকায় যান খাইরুল ইসলাম। সেখানে আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায় বলে তৃণমূলের দাবি। এই ঘটনায় খাইরুল ইসলাম-সহ চারজন আহত হন। গুরুতর জখম হন সুরাবুদ্দিন মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম ও মতিউর রহমান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের মাথায় চোট লেগেছে। হামলার সময় খাইরুল ইসলামের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
আহতদের দ্রুত জিরানগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন বিধায়ক শওকত মোল্লা। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এলাকার বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বন্ধ করে অন্ধকার তৈরি করা হয়েছিল এবং সেই সুযোগে হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পোলেরহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
এরপরই আরও চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ফেরার সময় শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয় এবং গুলি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও বোমার সুঁতুলি উদ্ধার হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
শওকত মোল্লা লিখিত অভিযোগে আইএসএফের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। যদিও ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, খাইরুল ইসলাম এলাকায় গিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করেছিলেন এবং স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়েছে। বোমাবাজির অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন।
বর্তমানে পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন-
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতার চাকা ঘুরছে! ১২ দিন ধরে জেলাজুড়ে প্রচার গাড়ি