নয়া জামানা ডেস্ক : দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক।আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ও আইএসআই-এর মদতপুষ্ট একটি চক্র। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বড়সড় সাফল্য পেলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই চক্রটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের তৎপরতায় এই অভিযান চালানো হয়।তদন্তের মূলে ছিল অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু উসকানিমূলক পোস্ট এবং দিল্লির রাজপথে দেখা যাওয়া বিতর্কিত কিছু পোস্টার। সাম্প্রতিককালে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কাশ্মীরের কথা উল্লেখ করে নানারকম রাষ্ট্রবিরোধী দাবি সংবলিত পোস্টার দেখা গিয়েছিল। একই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেহাদি কার্যকলাপের উসকানি দেওয়া শুরু হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এর পিছু ধাওয়া করে জানতে পারে, এই ষড়যন্ত্রের শিকড় ছড়িয়ে আছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। এর পরেই শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তদন্তকারী দলটি তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় হানা দেয়। সেখান থেকে মিজানুর রহমান, মহম্মদ শাবাত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল নামে ছয়জনকে আটক করা হয়। ধৃতরা সেখানে সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে কাজ করছিল। অন্যদিকে, এই চক্রের সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত আটজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা নিজেদের আসল পরিচয় গোপন করতে জাল আধার কার্ড ব্যবহার করছিল।দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল জানিয়েছে, অভিযানের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তারা পাকিস্তান বা বাংলাদেশের কোন কোন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তদন্তকারীরা এই অভিযানকে নাশকতার বিরুদ্ধে এক বিরাট জয় হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে কীভাবে এই চক্র জাল বিস্তার করেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।বর্তমানে ধৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে আনা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, ধৃতদের জেরা করলে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের আরও গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন-