নয়া জামানা ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং আসন্ন রাজ্যসভা ভোটকে সামনে রেখে রণকৌশল সাজাতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে আগামী দিনের নির্বাচনী রোডম্যাপ, প্রার্থী চয়ন এবং সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।সূত্রের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক থাকতে পারে। মমতা ও অভিষেক—উভয় নেতাই ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’ এবং ‘জনসংযোগ’-কে প্রার্থী পদের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। পুরনো অনেক বিধায়ক এবার টিকিট না-ও পেতে পারেন; পরিবর্তে একঝাঁক নতুন ও তরুণ মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এমন প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।বিধানসভার পাশাপাশি আসন্ন রাজ্যসভা ভোট নিয়েও বৈঠকে সবিস্তার আলোচনা হয়। অতীতে পারফরম্যান্সের নিরিখে বর্তমান সাংসদদের কাউকে কি পুনরায় সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি নতুন মুখ দিল্লি পাঠানো হবে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে জহর সরকারের ইস্তফার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিযুক্তি এবং দিনেশ ত্রিবেদীর দলত্যাগের মতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অত্যন্ত সতর্কভাবে প্রার্থী বাছাই করতে চাইছে কালীঘাট। প্রার্থীর বিশ্বস্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষমতাই হবে চূড়ান্ত মাপকাঠি।রাজনীতির মারপ্যাঁচের মাঝেই আসন্ন দোলযাত্রা উৎসবকে জনসংযোগের বড় মাধ্যম হিসেবে দেখছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা স্তরের নেতাদের উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন-
‘রক্ষক না ভক্ষক?’ ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানায় সাংসদ বাপি হালদার