নয়া জামানা, কলকাতা ও মুর্শিদাবাদ : বেলডাঙার অশান্তি মামলার তদন্তভার হাতে নিলেও রাজ্য পুলিশের অসহযোগিতার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলল এনআইএ। তদন্তের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘কেস ডায়েরি’ দিতে টালবাহানা করছে পুলিশ, এই মর্মে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি জানানো হলে আদালত জানায়, আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হবে। এর আগে মামলাটি প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চে থাকায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি সেই বিশেষ বেঞ্চই বিষয়টি শুনবে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটা অশান্তির তদন্তে এনআইএ-কে সবুজ সংকেত দিয়েছিল উচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টও সেই তদন্তে হস্তক্ষেপ না করে জানিয়ে দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থা কাজ চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এনআইএ-র আইনজীবীর দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করছে না। এর ফলে থমকে রয়েছে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া। গতকাল কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতেও এই নিয়ে পুলিশের কড়া সমালোচনা করেন বিচারক। তিনি সাফ জানান, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের এমন কোনও নির্দেশ নেই যা কেস ডায়েরি দিতে বাধা দেয়। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ আদালতের বিচারক। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার ও তদন্তকারী আধিকারিককে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জানুয়ারি। ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ গ্রামে পৌঁছতেই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে পথে নামেন, যা পরে চরম অশান্তির আকার নেয়। সেই সময় পুলিশ ৩৬ জনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ধৃতদের মধ্যে ৩১ জনকে সশরীরে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ এনআইএ আদালত। এনআইএ জানিয়েছিল, পুলিশ না পারলে তারাই অভিযুক্তদের বহরমপুর থেকে কলকাতায় নিয়ে আসবে। তবে বিচারক সেই প্রস্তাব নাকচ করে পুলিশকেই অভিযুক্তদের হাজির করার দায়িত্ব দেন।
বেলডাঙার ঘটনায় ইউএপিএ-র মতো কঠোর ধারা প্রয়োগযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার ভার এখন হাইকোর্টের ওপর। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এনআইএ-কে একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট পেশ করতে হবে উচ্চ আদালতে। এর মধ্যেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই এনআইএ তদন্তের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। এখন দেখার, মঙ্গলবার হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে ঝুলে থাকা কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে পৌঁছয় কি না।
আরও পড়ুন-
ভোটার শিশুরাই ! পর্ষদের নির্দেশ মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভোট গ্রহণ