নয়া জামানা ,কলকাতা: কেন্দ্র সরকারের বন্দেমাতরম সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই নির্দেশিকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী উপাংশু শূর। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর ডিভিশন বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই এই সংবেদনশীল বিষয়ের শুনানি হতে পারে।মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করে। এতে বন্দেমাতরম-এর আদি চারটি স্তবককে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠান, পদ্ম পুরস্কার প্রদান এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরুর আগে এই রাষ্ট্রগীত গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। এমনকি রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানের সময়ও এটি বাজাতে হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনও অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও রাষ্ট্রগীত উভয়ই থাকলে, আগে রাষ্ট্রগীত এবং শেষে জাতীয় সঙ্গীত বাজবে। গানটি চলাকালীন সকলকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।মামলাকারীর প্রধান আপত্তি হলো এই গানের বর্ধিত স্তবক নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর পরামর্শে সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে বন্দেমাতরম-এর বিতর্কিত স্তবকগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেই প্রথাই অনুসৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ সেই পুরোনো স্তবকগুলো ফিরিয়ে আনায় দেশে অশান্তি বা বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে পিটিশনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।আইনজীবী উপাংশু শূর প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আরও পড়ুন-
হুমায়ুনের বাবরি নির্মাণে থাকল না আইনি বাধা, সুপ্রিম কোর্টে খারিজ জনস্বার্থ মামলা