নয়া জামানা ডেস্ক : নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে বিদ্ধ বিহার বিধানসভার ৪৫ জন বিধায়ক। এই গুরুতর অভিযোগে তাঁদের ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠাল পাটনা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত বিধায়কদের লিখিত জবাব পেশ করতে হবে। এই তালিকায় রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ওজনদার নেতারা থাকায় বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।ভোটারদের কাছে প্রার্থীর স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নির্বাচনী হলফনামা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি। সেখানে তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য পেশ করাকে আদালত অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে। নোটিশ প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন বিহারের বিদ্যুৎমন্ত্রী বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব, বিজেপি বিধায়ক জীবেশ মিশ্র, জেডিইউ-এর চেতন আনন্দ এবং আরজেডি বিধায়ক অমরেন্দ্র কুমার। এমনকি বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমারের বিরুদ্ধেও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তাঁকে এখনও আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়নি বলে খবর।আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী সিদ্ধার্থ প্রসাদ জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা জয়ী বিধায়কদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলি দায়ের করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী আবেদন এখনই সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে না। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের লিখিত জবাব খতিয়ে দেখার পরই আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।অষ্টম বারের বিজেপি বিধায়ক তথা স্পিকার প্রেম কুমারের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী আখাউড়ি ওঙ্কার নাথ, যিনি প্রায় ২৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। শাসক দল ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বিধায়করা এই আইনি জালে জড়ানোয় বিহারের রাজনীতিতে অস্বস্তি বাড়ছে। আদালত সূত্রে খবর, বিধায়কদের জমা দেওয়া হলফনামা এবং বর্তমান অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পরেই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে।
আরও পড়ুন-
ডিএ জট : সুপ্রিম-আজ্ঞা অমান্য রাজ্যের, রাজ্যকে ‘অবমাননা’র মামলা যৌথ মঞ্চের