নয়া জামানা ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যের দুই জনজাতির দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সারি ও সারনা ধর্মকে পৃথক ধর্মীয় কোড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ১৯ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এই জোড়া চিঠিতে কেন্দ্রকে গত পাঁচ বছরের ঝুলে থাকা সুপারিশগুলোর কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের মুখে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের জনজাতি ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে এটি রাজ্যের এক বড় মাস্টারস্ট্রোক।রাজ্য সরকার ২০১৮ সালেই রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে রাজ্যের সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছিল। এবার লক্ষ্য জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি। বাংলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে কুড়মি জনজাতির বাস থাকলেও পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য হিসেবে কুড়মালিকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাল। অন্যদিকে, প্রকৃতি উপাসক আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি সারি ও সারনা ধর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এর আগে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হলেও কেন্দ্র তাতে সায় দেয়নি। নবান্নের যুক্তি, এই স্বীকৃতি পেলে জনজাতিদের ধর্মীয় অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষিত হবে।রাজ্যের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন কুড়মি ও রাজবংশী আন্দোলনের নেতৃত্ব। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই জনজাতিগুলোর উন্নয়নে সচেষ্ট। এই সুপারিশ অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের বংশীবদন বর্মন এবং কুড়মি যৌথ মঞ্চের শুভেন্দু মাহাতো রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তাঁরা কুড়মালি ভাষায় শিক্ষক নিয়োগ ও পঠনপাঠন চালুর দাবিও তুলেছেন।পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও আদিবাসী তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন বা সিআরআই রিপোর্ট নিয়ে রাজ্যের ওপর চাপ বজায় রেখেছেন কুড়মি নেতৃত্ব। আদিবাসী কুড়মি সমাজের অজিত মাহাতো ও অনুপ মাহাতোদের মতে, ২০১৭ সাল থেকে ওআরজিআই -এর তোলা সাতটি প্রশ্নের উত্তর আটকে আছে। সেই জাস্টিফিকেশন পাঠালে তাঁরা বেশি খুশি হতেন। ভোটের মুখে এই চিঠির সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অজিত প্রসাদ মাহাতো।এর আগে রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই দুই ভাষা ও ধর্মের স্বীকৃতির দাবিতে সরব হলেও কেন্দ্র জানিয়েছিল, আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের ৪ জেলা এবং উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দুই দিনাজপুরের জনজাতি আবেগকে উসকে দিয়ে রাজ্য বল ঠেলে দিল কেন্দ্রের কোর্টেই।
আরও পড়ুন-
বিশ্বের দরবারে বাংলার সুগন্ধি! রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি পেল গোবিন্দভোগ- তুলাইপাঞ্জি ও কনকচূড়