কার্তিক ভান্ডারী,নয়া জামানা, বীরভূম: হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট বিক্রি নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসতেই তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল বিশ্বভারতী। বুধবার প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বিশ্বভারতীর এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রভবন পরিচালিত হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ তোলেন এমটিএস কর্মীরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সহ বিভিন্ন দপ্তরে ইমেলে অভিযোগ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেখানে আধার কার্ড দেখিয়ে প্রতি টিকিট ৩০০ টাকায় অগ্রিম বুকিং দেয়, সেখানে এক অধ্যাপক একই টিকিট ২০০০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। অভিযোগ, টিকিট কাউন্টার থেকে আধার যাচাই ছাড়াই অগ্রিম বুকিং করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের কাছে তা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই কালোবাজারির সামিল। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। আর তার মধ্যেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতীর উপাচার্যের নির্দেশেই এই প্রেস বিবৃতি জারি করেছে ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক। এই প্রেস বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট শুধুমাত্র রবীন্দ্র-ভবনের নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকেই নির্ধারিত মূল্যে দেওয়া হয়। কোনও এজেন্সি বা ব্যক্তির মাধ্যমে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নেই। কেউ যদি অন্য কোনও উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করেন, তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সরাসরি কাউন্টার থেকেই টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থাও চালু হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে কড়া ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি সহ্য করতে না পেরে কিছু ‘দুষ্কৃতী’ ও বিরোধী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে চাইছে। এই বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অপচেষ্টা সত্ত্বেও তারা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এমন প্রেস বিবৃতি প্রকাশের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বোলপুর – শান্তিনিকেতন জুড়ে। হেরিটেজ ওয়াক অংশগ্রহণকারী পর্যটকদেরও বার্তা দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্র ভবন টিকিট কাউন্টার থেকে তাঁরা যেন টিকিট কাটেন। এখান থেকে টিকিট কিনে নিয়ে গিয়ে অন্য কেউ বিক্রি করলে আমাদের কোন দায় নেই। সকলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতী তার নিজস্ব ঐতিহ্য বহন করে এগিয়ে চলেছে।
আরও পড়ুন-
৯ বছরের অবহেলা, আদালতের চাপে তড়িঘড়ি বিশ্বভারতীর বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ