শুভজিৎ দাস, নয়া জামানা, বারুইপুর: পেয়ারার নাম শুনলেই রাজ্যের মানুষের মনে ভেসে ওঠে বারুইপুরের ছবি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চল বহু বছর ধরেই উন্নত মানের পেয়ারা চাষের জন্য সুপরিচিত। সম্প্রতি বারুইপুরের পেয়ারা জিআই (জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন ) স্বীকৃতি পাওয়ায় এই ঐতিহ্য নতুন মর্যাদা পেয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশে চাহিদা বেড়েছে এবং কৃষকদের আয়ে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও লাভজনক জাত হিসেবে উঠে এসেছে তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা। বাইরে সবুজ খোসা আর ভেতরে উজ্জ্বল গোলাপি শাঁস—চেহারায় যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমন মিষ্টি ও রসাল। বাজারে এই পেয়ারার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। চাষিরা জানাচ্ছেন, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত সেচ দিলে গাছ লাগানোর এক বছরের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। এতে দ্রুত বিনিয়োগের টাকা উঠে আসে।
৩ থেকে ৪ বছরের একটি গাছ থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ফলন মিলতে পারে। পাইকারি বাজারে কেজিপিছু ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে গাছপিছু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক চাষি বছরে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন বলে জানা গেছে।
হালকা বেলে দোআঁশ বা কাদা দোআঁশ মাটি এই চাষের জন্য উপযুক্ত। গুটি কলম, জোড় কলম ও চোখ কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি হয়, যার মধ্যে গুটি কলম সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয়। বর্ষা, শীত ও বসন্ত—এই তিন মৌসুমে মূলত ফল সংগ্রহ করা হয়।
স্থানীয় চাষি মুক্তরাম মণ্ডল বলেন, আগে ধান চাষে তেমন লাভ হতো না। এখন তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষ করে সংসার অনেক ভালো চলছে। জিআই স্বীকৃতির গৌরবে বারুইপুর আজ কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আরও পড়ুন-
‘ভাণ্ডার’ বাড়লে বাড়বে বার্ধক্য ভাতাও, বিধানসভায় বিরোধী শিবিরকে চন্দ্রিমা