নয়া জামানা, খড়দহ : ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’— সুকুমার রায়ের কবিতার মতোই ভোলবদল ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তৃণমূল পার্টি অফিসের। অভিযোগ, খড়দহ বিধানসভার শান্তিনগর এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখল করে রাতারাতি সেখানে মুদি দোকান খুলে বসেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর তাপস সিনহা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির, অন্যদিকে কটাক্ষ ছুড়তে ছাড়েনি বিজেপি।২০১৩ সালে তৎকালীন তৃণমূল নেতা কাজল সিনহা দলীয় কর্মীদের নিয়ে এই পার্টি অফিসটি তৈরি করেছিলেন। ২০২১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর কাজলবাবু নিয়মিত এখানে বসতেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর কার্যালয়টি কিছুদিন বন্ধ ছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগেই ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকা তাপস সিনহা অফিসটি দখল করে মুদি দোকান শুরু করেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের দাবি, দলীয় কার্যালয় ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা অনৈতিক এবং এতে জনমানসে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
কার্যালয়টি ফেরত পাওয়ার দাবিতে তাঁরা উচ্চ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছেন।অভিযুক্ত তাপস সিনহা অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওখানে কোনও দলীয় কার্যালয় ছিল না। ওটি আমার কাউন্সিলর থাকাকালীন ওয়ার্ড অফিস ছিল। যদিও পানিহাটি পুরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ওই স্থানে তৃণমূলেরই দলীয় কার্যালয় ছিল।এই ঘটনায় সরগরম খড়দহের রাজনীতি। পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দলীয় কার্যালয় যাতে রাজনৈতিক কাজেই ব্যবহৃত হয় তা নিশ্চিত করবেন।অন্যদিকে, বিজেপি নেতা জয় সাহার খোঁচা, তৃণমূল বুঝতে পেরেছে ২০২৬-এ তারা আর ক্ষমতায় আসবে না। তাই সংসার চালাতে পার্টি অফিস দখল করে মুদি দোকান খুলতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুতে সরব তৃণমূল, ব্লকে ব্লকে মিছিলের ডাক অভিষেকের