গোপাল শীল, নয়া জামানা, ক্যানিং: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩৩ হাজার নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি, তবুও নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় বহু মানুষ শুক্রবার জীবনতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর দিকে।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা। তিনি দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের নাম বেশি হারে কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। সওকত মোল্লার বক্তব্য, “১৯৮০ বা ২০০২ সাল থেকে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, যাঁরা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, তাঁদেরও নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ৩৩ হাজার নাম বাদ পড়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে কেন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের নাম বেশি করে বাদ যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এই ধরনের পদক্ষেপ মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের নেতা সঞ্জয় নায়েক বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। সে ক্ষেত্রে ৩৩ হাজার নাম বাদ যাওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। নির্বাচন কমিশনারের নামে থানায় এফআইআর করা আইনসঙ্গত কি না, সেটাও প্রশ্নের বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টি ইস্যু করছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এখন নজর, তদন্তে কী উঠে আসে এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়।
আরও পড়ুন-
বাংলাদেশের নির্বাচনে ১২ টা পর্যন্ত ৩২ হাজার বুথে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ : ইসি সচিব