নয়া জামানা, কলকাতা : নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বঙ্গে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার আগেই এলাকায় আধাসেনা নামিয়ে জনমানসে আস্থা ফেরানো ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই জ্ঞানেশ কুমারদের প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে এই তৎপরতার মাঝেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া এবং নথি যাচাই নিয়ে নতুন বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ।কমিশন সূত্রে খবর, অতীতের হিংসার ইতিহাস পর্যালোচনা করে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং দুই ২৪ পরগনাকে উত্তেজনাপ্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার সেক্টর অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এক থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২টি করে বুথ ঘুরে অতি-স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করতে। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে এই এরিয়া ডমিনেশন প্রক্রিয়া চালানো হবে। কত কোম্পানি বাহিনী আসবে, তা চূড়ান্ত হবে নবনিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতে।বর্তমানে রাজ্যে এসআইআর-এর নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনির কাজ চলছে পুরোদমে। এই প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের দেওয়া কমিশনের একটি নতুন নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতে জানানো হয়েছে যে, পঞ্চায়েত প্রধানের ইস্যু করা জন্মের শংসাপত্র ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত বা সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে না।গ্রামীণ এলাকায় কয়েক দশক ধরে প্রধানরাই এই শংসাপত্র দিয়ে এসেছেন। কমিশনের এই তুঘলকি সিদ্ধান্তে বহু ভোটারের নাগরিকত্ব বা অস্তিত্ব প্রমাণের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়েও কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় নতুন এবং পুরনো উভয় স্তরের ভোটারদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।কমিশন আধিকারিকদের দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ধাঁচেই এবারও আগেভাগে বাহিনী আনা হচ্ছে। মূলত ঝামেলার আশঙ্কা আছে এমন জায়গায় সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের একাংশ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসআইআর নিয়ে যে ধরনের কড়াকড়ি ও নথি বাতিলের খেলা চলছে, তাতে ভোটের আগেই বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
তালিকা সংশোধনে বাদ লক্ষ লক্ষ নাম, কমিশনকে সুপ্রিম তোপ কুণাল-চন্দ্রিমার