ব্রেকিং
  • Home /
  • জেলা /
  • মুর্শিদাবাদে এবার বিড়ি শ্রমিকদের জন্য রাজ্যে, প্রথম হাসপাতাল, বুধে সামশেরগঞ্জে উদ্বোধন

মুর্শিদাবাদে এবার বিড়ি শ্রমিকদের জন্য রাজ্যে, প্রথম হাসপাতাল, বুধে সামশেরগঞ্জে উদ্বোধন

নয়া জামানা, মুর্শিদাবাদ : বিড়ি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে রাজ্যের উদ্যোগে এই প্রথম পথ চলা শুরু করছে ১০০ শয্যার বিড়ি শ্রমিক হাসপাতাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ তৎপরতায় অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য....

মুর্শিদাবাদে এবার বিড়ি শ্রমিকদের জন্য রাজ্যে, প্রথম হাসপাতাল, বুধে সামশেরগঞ্জে উদ্বোধন

নয়া জামানা, মুর্শিদাবাদ : বিড়ি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে রাজ্য সরকার।....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, মুর্শিদাবাদ : বিড়ি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে রাজ্যের উদ্যোগে এই প্রথম পথ চলা শুরু করছে ১০০ শয্যার বিড়ি শ্রমিক হাসপাতাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ তৎপরতায় অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে নির্মিত এই অত্যাধুনিক হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে বুধবার। প্রায় ১৩ লক্ষ বিড়ি শ্রমিকের জেলা মুর্শিদাবাদে এটিই হতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য তৈরি প্রথম কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র।

মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, যার সিংহভাগই বাস করেন জঙ্গিপুর মহকুমায়। দীর্ঘকাল ধরে এই বিশাল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও পরিকাঠামো ছিল না। এতদিন গুরুতর অসুস্থতায় তাঁদের ছুটতে হতো বহরমপুর বা জঙ্গিপুর হাসপাতালে। এবার সেই ভোগান্তি কমতে চলেছে। শমসেরগঞ্জের অনুপনগরে সদ্য নির্মিত চারতলা ভবনে এই হাসপাতালটি চালু হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আপাতত ১০০ শয্যা নিয়ে পরিষেবা শুরু হলেও ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালের পরিকাঠামো সাজাতে কোনও খামতি রাখেনি নবান্ন। ইতিমধ্যেই ১৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এখানে নিয়োগ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ, অস্থিশল্য চিকিৎসক, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। শ্রমিকদের জন্য থাকছে ২৯টি আইসিইউ শয্যা এবং ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে আধুনিক এক্স-রে মেশিন। প্যাথলজি পরীক্ষার সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও মিলবে এক ছাদের তলায়। গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এখানে ছোট-বড় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও থাকছে।

উল্লেখ্য, অনুপনগরে ইতিমধ্যেই ৩০০ শয্যার ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ গড়ে উঠেছে। ঠিক তার বিপরীত দিকেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এই নতুন হাসপাতালটি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিড়ি শ্রমিকদের কল্যাণে এই পদক্ষেপ কার্যত যুগান্তকারী। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাম আমলে অনুপনগর হাসপাতাল রুগ্ন অবস্থায় ছিল। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আন্তরিকতায় এখন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।’

শমসেরগঞ্জের তারাপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ৬০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও সেটি বর্তমানে ধুঁকছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিধায়ক আমিরুল ইসলামের অভিযোগ, ‘রুগ্ন হয়ে থাকা তারাপুর হাসপাতাল পরিচালনা করার দায়ভার রাজ্য সরকার নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকারের তরফ থেকে কোনও সদুত্তর না মেলায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হন সামশেরগঞ্জে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য এই হাসপাতাল নির্মাণে।’

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সরব হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের বিড়ি ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে কাঁচামাল, পাতা, তামাক, সুতো, লেবেল বা অন্যান্য জিনিস বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যেক বছর কোটি কোটি টাকা জিএসটি নিয়ে যায়। অথচ এখানকার বিড়ি শ্রমিকদের তারা ন্যূনতম পরিষেবা দেয় না। আগে বিড়ি শ্রমিকরা আবাসনের টাকা, চিকিৎসা খরচ, পরিচয়পত্র ও সন্তানদের জন্য স্কলারশিপ পেতেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে এগুলো সবই বন্ধ করে দিয়েছে।’ রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগে শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, ফরাক্কা ও সুতি এলাকার বিড়ি শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে এখন খুশির হাওয়া।

আরও পড়ুন-

 

শরীরে প্রাণঘাতী রোগ স্লিকোসিস! একাধিক দাবি ঘিরে ডিএম অফিসের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর