টিনা প্রামানিক,নয়া জামানা, মালদা:৭৩ বছর বয়স,সাদা চোখে এটি অবসরের বয়স হলেও রতুয়া-১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অজয় সিনহার কাছে এটি এক নতুন উদ্দীপনার নাম। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও জনসেবা থেকে তিনি একদিনের জন্যও ছুটি নেননি। কেমন কাটে এই নেতার একটা সাধারণ দিন ? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
ভোরের শুরু ও সাদাসিধে প্রাতরাশ
প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল ৬:৩০ মিনিটে ঘুম ভাঙে অজয় বাবুর। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শৃঙ্খলা আজও অটুট। দিন শুরু হয় একদম ঘরোয়া মেজাজে। শরীরের যত্ন নিতে প্রাতরাশে কোনো আড়ম্বর নেই, এক গ্লাস ছাতু খেয়েই তিনি নিজেকে চাঙ্গা করে নেন। এরপর বাড়ির কিছু দরকারি কাজ সেরে ঠিক সকাল ১০টার মধ্যে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ময়দানে পা বাড়ান।
মানুষের আঙিনায়: যখন রাজনীতিই হয়ে ওঠে সেবা
বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তাঁর প্রথম কাজ হলো মানুষের কাছে পৌঁছানো। তাঁর দিনের এই অংশটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত:
সরাসরি কথা: এলাকার মোড়ে বা কারো বাড়ির দাওয়ায় বসে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মন দিয়ে শোনা।
সমস্যা সমাধান: কেবল কথা শোনা নয়,কারো প্রশাসনিক সাহায্য লাগলে বা কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে তা তৎক্ষণাৎ সমাধানের চেষ্টা করা।
মধ্যাহ্ন থেকে অপরাহ্ন: সাংগঠনিক ব্যস্ততা
দুপুরের পর তাঁর গন্তব্য হয় রতুয়া ১নং ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল। কখনো দলীয় কর্মীদের সাথে বৈঠক, আবার কখনো সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা সরেজমিনে তদারকি করা। কোনো দলীয় কর্মসূচি থাকলে সেখানে তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের নতুন উদ্যম জোগায়।
সন্ধ্যার আসর: ঠিকানা যখন দলীয় কার্যালয়
সূর্য ডুবলে যখন পৃথিবী শান্ত হয়, অজয় বাবুর কর্মব্যস্ততা তখন তুঙ্গে। সন্ধ্যার পর তিনি বসেন দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে।
কারো সার্টিফিকেটে সই দরকার, কারো বা পাড়ার কোনো বিবাদ মেটানো প্রয়োজন সবকিছুর সমাধান মেলে এখানে।
কর্মীদের সাথে বসে ব্লকের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন তিনি।
রাত: ক্লান্তিহীন ফেরার পথ
সারাদিনের ধকল শেষে যখন তিনি বাড়িতে ফেরেন তখন রাত অনেকটাই বেশি। তবে দিনের কাজ শেষ হলেও তাঁর ভাবনা থামে না। রাতের আহার সেরে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ডায়েরিতে বা মনে মনে পরের দিনের কর্মসূচী নিখুঁতভাবে সাজিয়ে নেন। ঠিক এভাবেই শেষ হয় রতুয়া-১ ব্লকের এই নেতার একেকটি দিন।
এক নজরে সারাদিনের সময়সূচী
সময় ও কর্মসূচি
০৬:৩০ মিনিট | ঘুম থেকে ওঠা ও দিন শুরু। |
সকাল ১০:০০-ছাতু খেয়েই জনসেবার উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ।
দুপুর – বিকেল-অঞ্চল পরিদর্শন, মানুষের সমস্যা শোনা ও সমাধান।
সন্ধ্যা-দলীয় কার্যালয়ে বসে মানুষের সাথে সরাসরি সংলাপ।
রাত্রি-বাড়ি ফেরা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা। আদর্শের লড়াইয়ে কোনো বিরতি নেই-অজয় সিনহার প্রতিটি দিনই যেন এই বার্তার এক জীবন্ত দলিল।