নয়া জামানা ডেস্ক : দেশের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও মহিলা প্রধানমন্ত্রী নেই। ইন্দিরা গান্ধীর পর সেই শূন্যস্থান আজও পূরণ হয়নি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অভাব মেটানোর জন্য সবথেকে যোগ্য নেত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে লেখা নিবন্ধে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের তৎকালীন মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু। তাঁর এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ করে ইন্ডিয়া ব্লকের অন্দরে নতুন সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে।সঞ্জয় বারু তাঁর নিবন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন সেলফ মেড বা স্বনির্ভর নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, মমতা এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি শূন্য থেকে লড়াই করে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। বারু যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমানে ভারতে মমতাই একমাত্র মহিলা যিনি একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল এবং একটি বড় রাজ্যের সরকার সফলভাবে পরিচালনা করছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এই দুই মাপকাঠিতেই মমতা অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।বারুর এই সওয়ালের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল। তিনি মনে করেন, বর্তমান শাসক দল বিজেপি মূলত একটি পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। অন্যদিকে, বিজেপি সাম্প্রতিক নির্বাচনে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে সফল হয়েছে। বারুর মতে,বিরোধী জোটে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন স্বাধীন ও শক্তিশালী মহিলা মুখ সামনে থাকেন, তবে তা বিজেপির মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে।একজন লড়াকু নারী হিসেবে মমতার ভাবমূর্তি মোদি-শাহ জুটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাড়তি মাইলেজ দেবে।বারুর নিবন্ধে কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়েও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে যে সোনিয়া-মনমোহন মডেল অনুসরণ করেছে, বর্তমানে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে সামনে রেখে সেই একই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই মডেল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে এসে মমতার মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক নেত্রীকে সামনে আনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নজর এখন মমতার দিকে। যেভাবে তিনি একক শক্তিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মোকাবিলা করছেন, তা তাঁকে জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরছে। সঞ্জয় বারুর এই মন্তব্য সেই জল্পনাকেই মান্যতা দিল। তাঁর মতে, ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্ব যদি একজন মহিলার হাতে থাকে, তবে তা ভারতের লোকতান্ত্রিক কাঠামোয় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। কেবল মমতার ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির এক পরিবর্তিত রূপরেখা। যেখানে শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসের বদলে আঞ্চলিক শক্তির হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
আরও পড়ুন-
দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে জইশ! রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে মহিলা ব্রিগেড নিয়ে সতর্কতা