নয়া জামানা, মুর্শিদাবাদ : ব্যক্তি মহম্মদ সেলিমকে বিধানসভায় পাঠাতে মরিয়া হুমায়ুন কবীর, কিন্তু ব্রাত্য সিপিএম। জোটের জট কাটিয়ে এবার সরাসরি বামফ্রন্টকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো ‘অস্তিত্বহীন’ দল নিয়ে চলা বামেদের সঙ্গে তাঁর ‘জনতা ইউনাইটেড পার্টি’ নেই। তবে মুর্শিদাবাদের মাটিতে সেলিম ও অধীর চৌধুরীকে জেতাতে চেষ্টার কসুর করবেন না তিনি। ভোটের আগে হুমায়ুনের এই উল্টো চালে এখন শোরগোল মুর্শিদাবাদ থেকে আলিমুদ্দিন।
কিছুদিন আগেই হোটেলের রুদ্ধদ্বার কক্ষে সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুনের বৈঠক ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সিপিএমের অন্দরেও ওই বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সেলিমকে। বাম শরিকরা তো বটেই, এমনকি খোদ আলিমুদ্দিনের অন্দরেও এই বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধে। সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে সোমবার হুমায়ুন জানিয়ে দিলেন, জোট ভেস্তে গেলেও ব্যক্তি সেলিমের প্রতি তাঁর সমর্থন অটুট। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘মহম্মদ সেলিম যদি মুর্শিদাবাদের কোনও আসনে লড়েন, তাহলে তাঁকে সমর্থন করব। সেলিম যাতে বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় আসেন, সেই চেষ্টা করব।’
সেলিমের পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীর প্রতিও নরম সুর শোনা গিয়েছে ভরতপুরের বিধায়কের গলায়। তাঁর মতে, বিধানসভায় অধীরের মতো অভিজ্ঞ নেতার প্রয়োজন রয়েছে। হুমায়ুন বলেন, ‘অধীরবাবুর মতো লোকের বিধানসভায় দরকার। তিনি যদি হাত প্রতীকে লড়াই করেন, তাঁকে হারানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ করব না। তাঁকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করব।’ তবে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে নিয়ে তাঁর তোপ মারাত্মক। শুভঙ্করের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা ও ‘তৃণমূলের দালালি’ করার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি।
তৃণমূল ত্যাগ করার পর থেকেই হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নিজেকে ‘কিংমেকার’ হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট। কখনও মিম, কখনও আইএসএফ, আবার কখনও বামেদের সঙ্গে জোটের কথা বললেও এখন তিনি একলা চলার পথেই। বিশেষত ফরওয়ার্ড ব্লকের কড়া বিরোধিতার মুখে বামেদের সঙ্গ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শরিক দলকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, ‘ফরওয়ার্ড ব্লক একটা অস্তিত্বহীন পার্টি। বামফ্রন্ট এদের নিয়ে থাকুক।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি বামফ্রন্টের হাত না ধরে শুধুমাত্র সেলিমকে সমর্থনের বার্তা দিয়ে আদতে সিপিএমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিলেন হুমায়ুন। একদিকে সেলিমকে ব্যক্তিগত স্তরে কাছে টানা, অন্যদিকে শুভঙ্কর সরকারকে তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে দেগে দেওয়া, হুমায়ুনের এই দ্বিমুখী কৌশল মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী পাটিগণিত উল্টে দিতে পারে। এখন দেখার, এই ‘ব্যক্তিগত সমর্থনে’র প্রস্তাব বাম-কংগ্রেস শিবির কীভাবে গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন-
মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ‘বাবরি যাত্রা’, দুই ফুলকে সরাতে মিম-হুমায়ুন জোট