তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা, বীরভূম: ফুসফুসের মারণব্যাধি স্লিকোসিসে আক্রান্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, মাসিক পেনশন ও চিকিৎসার দাবিতে সোমবার সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন মহম্মদবাজার এলাকার পাথর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ তুলে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার-পরিজনেরা।
জানা গেছে, মহম্মদবাজারের পাথর খাদান ও ক্রাশার জোনে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে বহু শ্রমিক স্লিকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শতাধিক ব্যক্তিকে এই রোগে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের অধিকাংশই কোনও সরকারি ক্ষতিপূরণ, পেনশন কিংবা নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা পাননি বলে অভিযোগ। উপার্জনক্ষম সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিংবা মৃত্যুবরণ করায় বহু পরিবার আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।স্লিকোসিস একটি দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতী ফুসফুসজনিত ব্যাধি। দীর্ঘ সময় ধরে সিলিকা ধুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাথর ভাঙা, খনি, নির্মাণ শিল্প ও ক্রাশার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। একবার আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়ে, কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুও ঘটে।এদিন আন্দোলনকারীরা ছ’দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে স্লিকোসিসে আক্রান্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, মাসিক পেনশনের ব্যবস্থা, সরকারি হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে স্লিকোসিস পরীক্ষা, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্লিকোসিসে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন।বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলাপ্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শ্রমিকদের বক্তব্য, আশ্বাস নয়— দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপই এখন তাঁদের একমাত্র দাবি।পাথর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের মতে, স্লিকোসিস কেবল একটি রোগ নয়, এটি এক নীরব সামাজিক বিপর্যয়। যথাযথ নজরদারি, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তা না মিললে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন-