নয়া জামানা ডেস্ক : “এয়ারপোর্ট পে নেহি, সড়ক পে ল্যান্ড কারেঙ্গে”—নিজের দেওয়া কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার অসমের মোরানে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নবনির্মিত জরুরি অবতরণ পথে সওয়ার হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো জাতীয় সড়কে অবতরণ করার নজির গড়লেন মোদি।এদিন সকালে অসমের চাবুয়া বিমানঘাঁটি থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ সি১৩০-জে হারকিউলিস বিমানে চড়েন প্রধানমন্ত্রী। গন্তব্য ছিল ডিব্রুগড়ের মোরান। সেখানে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্মিত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম জরুরি অবতরণ পথে বিমানটি সফলভাবে স্পর্শ করলে এক নয়া দিগন্তের সূচনা হয়। অবতরণের পরেই শুরু হয় বায়ুসেনার চোখধাঁধানো প্রদর্শনী। তেজাস, সুখোই এবং রাফালের মতো প্রথম সারির যুদ্ধবিমানগুলো আকাশপথে নিজেদের শক্তির পরিচয় দেয়।মোরানের এই জরুরি অবতরণ পথটি নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং যুদ্ধ ও পরিবহণ উভয় ক্ষেত্রেই এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই পথটি সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের সামরিক বিমান এবং ৭৪ টন ওজনের অসামরিক বিমান ওঠানামা করতে সক্ষম।বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। চীন, মায়ানমার এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংবেদনশীল সীমান্তে শত্রুর মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে দ্রুত রসদ ও সৈন্য পাঠাতে সাহায্য করবে এই স্ট্রিপ।উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও উত্তরপ্রদেশের একটি স্ট্রিপে এভাবেই বিমান অবতরণ করেছিলেন মোদি। বায়ুসেনা বর্তমানে সারা দেশে ২৮-২৯টি এই ধরণের জরুরি অবতরণ পথ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির কাজ প্রায় শেষ। চাবুয়ার নিকটবর্তী এই মোরান স্ট্রিপটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী এখান থেকেই গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেন।
আরও পড়ুন-