নয়া জামানা, পুরুলিয়া : ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু পুরুলিয়ার যুবকের। পুণেতে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির বিষয়ে সবরকম আইনি সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহল।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০০৯ সাল থেকে সুখেন ও তাঁর দুই ভাই পুণের একটি সংস্থায় কাজ করতেন। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে তিনটের শিফটে কাজে যাওয়ার কথা ছিল সুখেনের। বিকেল ৩টে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সন্ধ্যার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবারের। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয় সুখেন অসুস্থ, কিন্তু পরিবারের দাবি— তাঁর শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা স্পষ্টতই খুনের ইঙ্গিত দেয়। অভিষেক বলেন, কীভাবে মারা গিয়েছেন সুখেন তা তদন্তসাপেক্ষ, তবে শরীরের ক্ষত দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি খুন। প্রকৃত তদন্তে সব সত্য উঠে আসবে।নিহতের পরিবার যাতে বিচার পায়, তার জন্য প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে নেপথ্যে আরও অনেকে থাকতে পারে।
অভিযুক্তরা যাতে কোনোভাবেই জামিন না পায়, তা নিশ্চিত করবে দল। পুণে থেকে দেহ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তৃণমূল নেতৃত্ব অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এই ঘটনায় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকেও আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক। তিনি আর্জি জানান, বিজেপি সাংসদ যেন অন্তত একবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে এই কুড়মি যুবক খুনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব দোষী ধরা না পড়লে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল মহারাষ্ট্রে যাবে।
সুখেনের মৃত্যুর পর আতঙ্কিত তাঁর অন্য দুই ভাই আর ভিনরাজ্যে ফিরে যেতে চান না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি আবেদন করবেন যাতে ওই দুই ভাইয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা জেলাতেই করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জেলার প্রতিটি বিধানসভায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন-