নয়া জামানা ডেস্ক : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে কিছু কূটনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতা ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। মাহদী আমিনের মতে, প্রতিটি সমস্যাই আসলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার একটি সুযোগ।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নয়া দিল্লির সঙ্গে ঢাকার যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘুচিয়ে বিএনপি একটি সমমর্যাদার সম্পর্ক গড়ার পক্ষপাতী। মাহদী আমিন বলেন, “আমরা এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই যেখানে দুই দেশই সমান এবং ন্যায্যভাবে উপকৃত হবে।” শুধু প্রতিবেশী ভারত নয়, বাণিজ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করার সম্ভাবনা দেখছে বিএনপি।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ও বর্তমান নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন সরাসরি জনগণের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কয়েক দশকের দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দলটির বিরুদ্ধে এই অবস্থান নিয়েছেন। এটি কোনও একক দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর আদর্শে বিশ্বাসী। এই আদর্শ অনুযায়ী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দলের মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে, মাহদী আমিনের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে।
আরও পড়ুন-
আমেরিকার পর এবার পশ্চিম এশিয়া! আরও ছ’টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে নয়া দিল্লি