নয়া জামানা, বর্ধমান : পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে অল্প বয়সীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। আর এ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হল জেলা স্বাস্থ্য দপৈ পক্ষ থেকে। বিশেষ করে নাবলকদের মধ্যে এই রোগ কি ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করা হল। ২০ বছর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা বেশি ছিল এ জেলায়। কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ বছর বয়সের নিচে নাবালকদের রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বাড়ছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এখানেই শেষ তুলনামূলক ভাবে গৃহবধূদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। আর তার পরেই উদ্বেগ বেড়েছে।
এইচআইভি প্রতিরোধে সারা বছরই পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হয়। তা স্বত্ত্বেও এবছর এই এই রোগ নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন নাবালক এবং অতি অল্প বয়সের মধ্যে এবছর সংক্রমণ বেড়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী এবছর জেলায় ৩১৪ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ মিলেছে। গত বছরের তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। কিন্তু নাবালকদের শরীরের মধ্যে এবার খুব বেশি ভাইরাস পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মাঝ বয়সী গৃহবধূদের সংক্রমণ বেড়েছে। রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যেসব নাবালকদের শরীরে এইচআইভি আছে তাদের বয়স ১৪ বছরের নিচে। যে ২৪ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাদের সকলেই ছাত্র- ছাত্রী। এত কম বয়সের ছেলেদের কি ভাবে সংক্রমণ ঘটে গেল তা ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। এছাড়াও ৫৮ জন গৃহবধুর রক্তেও এইচআইভি পাওয়া গেছে। সব নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই বাড়িয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, এবছর পুরুষ যৌন কর্মীদের মধ্যেও এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে সমকামী পুরুষদেরও রোগ বেড়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, যেভাবে অল্প বয়সীদের মধ্যে এই রোগ বেড়েছে তাতে চিন্তার বিষয় হয়ে উঠছে। একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আগের তুলনায় সমপ্রেমীদের সংখ্যা খোদ শহর বর্ধমানেই বেড়েছে। সেই সব জায়গায় এই রোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরুষ যৌন কর্মীদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সিএমওএইচ সুনেত্রা মজুমদার জানান, মোবাইল শিবিরের মাধ্যমে আগের তুলনায় সচেতন করার কাজ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। বার বার সচেতন করে বলা হচ্ছে নিরাপদ যৌন সম্পর্কের কথা। তা সত্ত্বেও রোগের প্রকোপ ঠেকানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরও সচেতনতা এবং পরীক্ষা বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে যৌন কর্মীদের নিয়ে সচেতনতা মূলক কাজ করা একটি সংগঠন স্প্রিড এর কর্ণধার তাপস মাকড় বলেন, উচ্চ শিক্ষিত পুরুষদের মধ্যে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক বাড়ছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।
আরও পড়ুন-