নয়া জামানা ডেস্ক : দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাস-বিরোধী পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে জমা পড়া ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মাসুদ আজাহারের এই সংগঠনটি কেবল হামলার দায়ই স্বীকার করেনি, বরং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রসারে এখন ‘মহিলা ব্রিগেড’ ব্যবহার করছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর জইশ প্রধান মাসুদ আজাহার আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলাদের নিয়ে একটি শাখা গঠনের ঘোষণা দেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জামাত-উল-মোমিনাত’। এই ব্রিগেডের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আত্মঘাতী হামলা থেকে শুরু করে তথ্য আদান-প্রদান—সব ক্ষেত্রেই এই মহিলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে।তদন্তে জানা গেছে, এই সংগঠনটি মূলত জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। শিক্ষিত এবং শহুরে মুসলিম মহিলাদের টার্গেট করার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রলুব্ধ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকার মহিলাদেরও দলে টানছে এই গোষ্ঠী।এই নতুন ব্রিগেডের দায়িত্বে রয়েছেন মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়া আজাহার। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুরে’ সাদিয়ার স্বামী ইউসুফ নিহত হয়েছিল। বর্তমানে এই ব্রিগেডে জইশের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন এবং ভাওয়ালপুর, করাচি ও মুজফফরাবাদের মতো এলাকা থেকে সদস্য সংগ্রহ চলছে। রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় আশঙ্কার মেঘ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন-
সিঁদুরেও শিক্ষা হয়নি পাকিস্তানের! দিল্লি কাঁপানোর হুমকি লস্কর নেতার