সুজিত দত্ত, নয়া জামানা, বর্ধমান : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর উপর হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ। অভিযোগের তীর শাসকদলের এক অঞ্চল সভাপতির দিকে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং সামনে এসেছে বলে দাবি করা একটি সিসিটিভি ফুটেজ।
ঘটনাটি ঘটেছে খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, বেরুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের নেতৃত্বে বুধবার বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের মন্দির সংলগ্ন একটি দোকানে অশান্তি ছড়ানো হয়। দোকানটি বিজেপি সমর্থক দীপক অধিকারীর বলে জানা গিয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বচসা বাধে।

বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, বচসার জেরে দীপক অধিকারী ও তার পুত্র আস্তিক অধিকারীর উপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। আস্তিক অধিকারী এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অভিযোগ, দু’জনকেই মারধর করা হয় এবং পরীক্ষার্থী আস্তিককে জোর করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। আহত বাবা-ছেলে খণ্ডঘোষ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করান। বিজেপির অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে তা নিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। এমনকি অভিযোগপত্র থেকে নির্দিষ্ট নাম বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি। পরে বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও নতুন করে লেখা অভিযোগে পরীক্ষার্থী আস্তিক অধিকারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে বলে দাবি বিজেপির। তাঁদের বক্তব্য, ওই ফুটেজে পরীক্ষার্থীকে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। কয়েক মাস আগে বোঁয়াইচণ্ডী বাজারে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
বিজেপির আরও অভিযোগ, যুব মোর্চার ‘চাকরি চায় বাংলা’ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম জানান,
“ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জেনেছি। পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন-