শুভজিৎ দাস, নয়া জামানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের দক্ষিণ রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বিজলী পাড়ায় এক আশ্চর্য কিন্তু মর্মান্তিক বাস্তবতা আজও চলছে। একটি প্রশাসনিক ভুলের জেরে রত্নাকর বিজলীর দুই মেয়ে—জয়শ্রী বিজলী ও বনশ্রী বিজলী—দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি সুযোগ–সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। কারণ একটাই—দুই বোনের নামে ইস্যু হয়েছে একই আধার নম্বর।
পরিবারের অভিযোগ, আধার কার্ড তৈরির সময় এই গুরুতর ভুল ধরা পড়েনি। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক সমস্যার মুখে পড়তে শুরু করে পরিবার। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেও কলেজে ভর্তি হতে পারেননি দুই বোন। তপশিলি জাতির শিক্ষাবৃত্তি, কন্যাশ্রী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা—সবকিছুই কাগজে–কলমে আটকে গেছে আধার সমস্যার কারণে।
জয়শ্রী ও বনশ্রীর মা সপ্না বিজলী জানান, “একটা আধার নম্বরের জন্য আমাদের মেয়েদের জীবন থমকে গেছে। কোথাও গেলেই বলা হয়—একটাই আধার দেখাচ্ছে, দু’জনের কাজ হবে না।” কোভিড টিকাকরণের সময়ও একই সমস্যা দেখা দেয়। এক মেয়ে টিকা পেলেও অন্য মেয়েকে ফেরত আসতে হয়, কারণ সিস্টেমে আধার নম্বর একটাই।
শুধু শিক্ষা বা স্বাস্থ্য নয়, দৈনন্দিন জীবনেও বিপাকে পরিবার। আধার সংযুক্তির সমস্যায় রেশন কার্ড কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত খাদ্যশস্য পাওয়াও অনিশ্চিত। ভোটার কার্ড না থাকায় ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত দুই বোন। নাগরিক পরিচয়ের অভাবে তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢাকা।
অভাবের সংসারে রত্নাকর বিজলী বাইরে কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। বড় মেয়ের বিয়ে হলেও, মেজ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের। প্রতিবেশী পার্থসারথি বৈরাগীর কথায়, একটা নথিগত ভুলে ওদের পড়াশোনা, অধিকার, সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কুলপি ব্লকের বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানান, আধার সংশোধন ব্লক স্তরে করা যায় না, কারণ বিষয়টি কেন্দ্রীয় পোর্টাল সংক্রান্ত। তবে আগের অভিযোগের নথি বা নতুন আবেদন জমা পড়লে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
দশ বছরের দৌড়ঝাঁপ ও হতাশার পর এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই জয়শ্রী ও বনশ্রীর শেষ ভরসা। তাঁদের একটাই দাবি—পরিচয়ের জট খুলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিক সরকার।
আরও পড়ুন-
শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?