নয়া জামানা, বর্ধমান : বালি পাচার এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল পরিচালিত চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনুপ মেটের ভাই অষ্টম মেটে। গভীর রাতে বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় এলাকা থেকে অষ্টমকে গ্রেপ্তার করে সোনামুখী থানার পুলিশ।পরে তাকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগে দামোদর নদে বর্ধমান- বাঁকুড়া সীমান্ত রণডিহা বালি ঘাটে অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সোনামুখী থানার পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় অষ্টম মেটে ও তাঁর অনুগামীরা পুলিশকে ঘিরে ধরে এবং পরে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। সোনামুখী থানার ওসি রাজশেখর মুখোপাধ্যায় জানান, বালি পাচার ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে অষ্টম মেটেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ভাইয়ের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনুপ মেটে বলেন,ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এই বিষয়টি আমি জানি না। কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাও জানা নেই। গত দশ বছর ধরে আমার সঙ্গে ওর কোনও সম্পর্ক নেই। ও শ্বশুরবাড়িতেই থাকে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, দামোদর নদে রণডিহা ঘাট-সহ সাকুড়ি বালি ঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন করা হয়। সেই বালি গ্রামের রাস্তার ধারে মজুত করে পরে ট্রাকে বোঝাই করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়ে থাকে। অভিযোগ, এই অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি বালি বোঝাই ভারী যান চলাচলের কারণে গ্রামের রাস্তা ভেঙে পড়ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদে সরব হলে বালি মাফিয়া-দের তরফে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়দের।চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য বর্ণালী মাজি বলেন, আমার স্বামী অবৈধ বালি উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় অষ্টম মেটে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। আমরা ওঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে, এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে গলসি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে। আইন আইনের পথেই চলবে। এই ঘটনাকে ঘিরে পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পূর্ব বর্ধমান জেলা সিপিআইএম নেতৃত্ব বিনোদ ঘোষ ঘটনা প্রসঙ্গে জানান,সারা রাজ্যে যেকোনো চুরি দুর্নীতির সাথে তৃণমূল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আমলে দুর্নীতি করার একটা প্লাটফর্ম পেয়েছে সমাজ বিরোধীরা। সরকারি সম্পত্তি লুঠ চলছে প্রশাসনের একাংশের মদতে।এদের মাথায় বড় বড় ছাতা ধরার লোক আছে।তাই এই ধরনের দুর্নীতি শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন-