অঞ্জন শুকুল, নয়া জামানা, নদীয়া: নিজের জমি থাকতেও সরকারি ডহর রাস্তার উপর জোরপূর্বক বাড়ি করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে।ঘটনাটি নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবনিবাস হালদারপাড়ার। শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানা গেছে ৩৭ নম্বর মৌজার ডহরের ২/ ১৭ নাম্বার দাগে হালদার পাড়ার বাসিন্দা, গোপাল সরকার সরকারি বাংলা আবাস যোজনার ঘর পেয়েছেন।তিনি সরকারি রাস্তা সম্পূর্ণ দখল করে তার উপরে ঘর করার চেষ্টা করেন। এই ব্যাপারে ঐ গ্রামের বাসিন্দা পরিমল বিশ্বাস শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান।অভিযোগের ভিত্তিতে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে গোপাল সরকারকে পঞ্চায়েতের মিটিংয়ে ডেকে নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয় সরকার থেকে পাট্টার যে এক শতক জায়গা পেয়েছেন সেই জায়গায় ঘর করুন,রাস্তা দখল করে বা রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে কোন ঘর করা যাবে না । তা সত্ত্বেও রবিবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপাল সরকার সেই রাস্তার উপরেই জোর করে বাড়ি করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে এই ব্যাপারে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৎক্ষণাৎ কৃষ্ণগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ এবং গোপাল সরকারকে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে তার সরকারি পাট্টা পাওয়া নিজের জায়গায় বাড়ি করার জন্য পরামর্শ দেন।শুধু পরিমল বাবুই নয় রাস্তা সম্পূর্ণরূপে দখল করে তৃণমূল কর্মী জোর করে বাড়ি করার চেষ্টার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরাও প্রধানকে মার্চ পিটিশন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই একটা রাস্তা সম্পূর্ণরূপে দখল করে বাড়ি করার চেষ্টার সাহস পেয়েছে। এই ব্যাপারে শিবনিবাস হালদার পাড়ার তৃণমূল নেতা, গনেশ বিশ্বাস বলেন দীর্ঘদিন এই রাস্তাটা পড়ে রয়েছে। অনেকটা জমির মধ্যে চারজনকে একশতক করে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। গণেশ বাবুকে প্রশ্ন করা হয় সরকারী রাস্তা দখল করে বাড়ি করা যায় কি ? গণেশ বাবু রাস্তার কথা স্বীকার করে নিলেও তিনি বলেন প্রয়োজনে আমরা অন্যজনকে পাট্টা দিয়ে দেবো।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গনেশ বাবু ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুলিশের সামনে রাস্তার উপর বাড়ি করার সাফাই গান।যদিও তদন্তে আসা পুলিশ আধিকারিক বলেন রাস্তা দখল করে কখনোই কোন কিছু করা সম্ভব নয়, তা সত্ত্বেও গণেশ বাবুর বক্তব্য প্রয়োজনে বাদবাকি জায়গা, আমরা পাট্টা দিয়ে দেবো। এই ব্যাপারে হালদার পাড়ার পঞ্চায়েত সদস্য তথা বিজেপির নেতা অমৃত বিশ্বাস বলেন জোরপূর্বক রাস্তার উপরে বাড়ি করার প্রতিবাদ গ্রামবাসীরা করেছে । শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা পঞ্চায়েত কোনোভাবেই দখল করে বাড়ি করতে দেবে না। এই ব্যাপারে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্থানীয় কৃষ্ণগঞ্জ বিএলআরও কে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।গোপাল বাবু বুঝতে পেরেছেন তিনি এই রাস্তা আটকে ঘর করতে পারবেন না,সেই জন্যই রবিবার ছুটির দিনে তড়িঘড়ি রাস্তার উপরে বাড়ি করার চেষ্টা করেন । তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে ও মদতেই গোপাল বাবুর এই কাজ করার সাহস পেয়েছেন।তাদের জানা উচিত কোনভাবেই সরকারি রাস্তা পুরোপুরি দখল করে বাড়ি তো দূরের কথা কোন কাজ করা যায় না , কারণ সেটা জনগণের যাতায়াতের রাস্তা ।এখন দেখার গোপালবাবু কি করে রাস্তা দখল করে বাড়ি করে । রাস্তা দখল করে বাড়ি করার প্রসঙ্গে গোপাল বাবুকে জানতে চাইলে, তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন তাকে সরকারিভাবে একশতক জমি পাট্টা দিলেও তিনি রাস্তার সম্পূর্ণভাবে দখল করে বাড়ি করার চেষ্টা করেছেন । পাশাপাশি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি সম্পূর্ণ রাস্তাটা দখল করেই বাড়ি করার কাজে হাত দিয়েছেন । যার জন্য পুলিশ এসে নিষেধ করেছেন । তৃণমূল কর্মীর রাস্তা দখল কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা । এখন দেখার বিষয়, গ্রামের তৃণমূল নেতার পাশে জেলার তৃণমূল নেতারা রাস্তা দখলকে স্বীকৃতি দেয় কিনা। নাকি আইনের জটিলতার জটে আটকে যায় গোপাল বাবুর বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন-
রাস্তার ধারেই বসে চিতাবাঘ! মোরাঘাট জঙ্গলে ফের চিতা বাঘের উপস্থিতি ঘিরে বাড়ল উদ্বেগ