নয়া জামানা, নদীয়া: চক্ষুদানকে ঘিরে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য।মৃত্যুর পর মায়ের চক্ষুদান নিয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।মায়ের চক্ষু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় সেনপুর শ্যামনগর এলাকায়। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকার এক বৃদ্ধ মহিলা নাম আবিয়া বিবি বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভুগছিলেন। অবশেষে তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় আসল কাহিনী।এলাকাবাসীদের অভিযোগ আবিয়া বিবির মৃত্যুর প্রায় দু’ঘণ্টা পর এলাকাবাসীরা যখন তাকে শেষ দেখা দেখতে যান তখন তারা লক্ষ্য করেন তার দুই চোখের মনি নেই। আশ্চর্যচকিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের সদস্যরা জানায় তার মায়ের চোখ দুটো দান করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চোখদানের কোনরকম সরকারি নথি বা কাগজপত্র না দেখানোয় সন্দেহ বৃদ্ধি পায়।খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে চক্ষুদানের কাগজপত্র চাইলে তখন পরিবার বেঁকে বসে এবং তাড়াহুড়োর জেরে একটি ভুয়ো প্রমাণ পেশ করে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরিবারের সদস্যদের উপর চড়াও হলে অবশেষে পুলিশ চক্ষুদানের সঠিক নথি না থাকার অপরাধে মৃতের চার ছেলে, ছেলের বউ ও দুই কন্যাকে গ্রেফতার করে। এলাকাবাসীদের আরও দাবী আবিয়া বিবির মৃত্যুর পরপরই তাদের বাড়িতে একটি চিকিৎসকের দলকে ঢুকতে দেখা যায়, তাদের আশঙ্কা তখনই হয়তো তার চোখ দুটি তুলে নেওয়া হয়েছে। চক্ষুদানের যে ভুয়ো কাগজটি এলাকাবাসীদের দেখানো হয়েছে তাতে মৃতের চার ছেলের সই রয়েছে। অন্যদিকে মৃতের বড় ছেলের দাবি তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে, তিনি চক্ষু দান করে সামাজিক কাজ করেছেন। যদিও পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং অভিযুক্তদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন-
সরকারি জমিতে তৃণমূল কর্মীর বাড়ি! অভিযোগ দায়ের পঞ্চায়েত প্রশাসনে, ঘটনাস্থলে পুলিশ