• Home /
  • বিদেশ /
  • রুশ তেল নিয়ে দিল্লির ডিগবাজি ? ট্রাম্পের চালে সঙ্কটে মস্কো-বন্ধুত্ব

রুশ তেল নিয়ে দিল্লির ডিগবাজি ? ট্রাম্পের চালে সঙ্কটে মস্কো-বন্ধুত্ব

রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনার দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য-সমঝোতার জেরে মস্কো থেকে তেল আমদানিতে বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে ভারতের। ট্রাম্পের দাবি মেনে রুশ তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, ভারত যে আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে....

রুশ তেল নিয়ে দিল্লির ডিগবাজি ? ট্রাম্পের চালে সঙ্কটে মস্কো-বন্ধুত্ব

রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনার দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য-সমঝোতার জেরে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনার দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য-সমঝোতার জেরে মস্কো থেকে তেল আমদানিতে বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে ভারতের। ট্রাম্পের দাবি মেনে রুশ তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, ভারত যে আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। সূত্রের খবর, চুক্তির শর্ত মেনে নতুন করে রুশ তেলের বরাত দিচ্ছে না অধিকাংশ ভারতীয় শোধনাগার সংস্থা। তবে বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি মুখ না খুললেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১৪০ কোটি দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তাই তাদের কাছে শেষ কথা।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে ভারতের অবস্থান নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, নয়াদিল্লি রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। পিটিআই সূত্রের খবর, ভারতের হাতে থাকা বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে তবেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই মস্কোর থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে। তবে বর্তমান চুক্তির আওতায় যে তেল আসার কথা, তা আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে আসবে। কিন্তু তারপর নতুন করে আর কোনও বরাত দেওয়া হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত প্রতিদিন ২১ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ১২ লক্ষ ব্যারেলে। চলতি বছর জানুয়ারিতে সেই গ্রাফ আরও নেমে ১১ লক্ষ ব্যারেলে ঠেকেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানির পরিমাণ ১০ লক্ষ ব্যারেলের নিচে নামতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কোপ পড়ার পর হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (এইচপিসিএল) বা ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারির মতো সংস্থাগুলো আগেই পিছিয়ে এসেছিল। এবার ইন্ডিয়ান অয়েল বা বিপিসিএল-এর মতো বড় সংস্থাও ধীরে ধীরে সেই পথে হাঁটছে। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজও মাঝপথে রাশিয়ার থেকে তেল নেওয়া ফের শুরু করলেও, শেষ দেড় লক্ষ ব্যারেল হাতে পাওয়ার পর তারা আর নতুন অর্ডার দেবে না বলে খবর।

তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে গুজরাতের ন্যায়ারা এনার্জি। ওই সংস্থার প্রায় অর্ধেক মালিকানা রুশ সংস্থা রসনেফ্টের হাতে থাকায় তারা কার্যত বাধ্য হয়েই রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে। ইউরোপ ও ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে অন্য কোনও উৎস থেকে তাদের পক্ষে তেল সংগ্রহ করা কঠিন। ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার সময় ভারতের তরফে ন্যায়ারার এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা আলাদাভাবে জানানো হয়েছে। ফলে বাকি সংস্থাগুলো হাত গুটিয়ে নিলেও ন্যায়ারা হয়তো রুশ তেলের ভরসাতেই টিকে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে ভারত এখন ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকতে পারে। ভেনেজুয়েলার তেল স্বাদে ‘টক’ এবং ওজনে ‘ভারী’ হলেও দামের দিক থেকে তা যথেষ্ট সস্তা। ফলে রাশিয়ার শূন্যস্থান পূরণে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি ভারতের তুরুপের তাস হতে পারে। যদিও রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিটোলিয়ার মতে, রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা এক লহমায় কাটানো সম্ভব নয়। কারণ ভারতের শোধনাগারগুলোর পরিকাঠামো রুশ তেলের সঙ্গে খাপ খেয়ে গিয়েছে।

শনিবার এই ইস্যুতে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘ভারত কোথা থেকে জ্বালানি আমদানি করবে আর কোথা থেকে নয়, তা নিয়ে অতীতে সরকারের তরফে বার বার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়।’ রণধীর আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে তেলের উৎসে বৈচিত্র্য আনাই ভারতের কৌশলগত নীতি। অর্থাৎ, আমেরিকার চাপ সামলে আর রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে ভারত কীভাবে নিজের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ রাখে, এখন সেটাই দেখার।


আরও পড়ুন-

 

আমেরিকার পর এবার পশ্চিম এশিয়া! আরও ছ’টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে নয়া দিল্লি

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর