নয়া জামানা, বর্ধমান : জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের নির্দেশ মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়ে গেল ভোটাভুটি। ছোট্ট পড়ুয়াদের নিয়ে এই অভিনব নির্বাচন ঘিরে এদিন ছিল উৎসবের আমেজ। সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলে ভোটদান পর্ব চলে বিদ্যালয়ে। ছিলনা কোন পুলিশ পাহারা, নেই সশস্ত্র বাহিনী,তবুও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল নির্বাচন। এমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল গলসির দয়ালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।তবে এই নির্বাচন কোনও লোকসভা বা বিধানসভা ভোট নয়। এটি ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু সংসদ নির্বাচন। সাধারণত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নির্দেশে শিশু সংসদ মনোনীত পদ্ধতিতে গঠিত হলেও, দয়ালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিনব উদ্যোগে পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শিশু সংসদ গঠন করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ভোটগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষা ও পরিবেশমন্ত্রী এই পাঁচটি পদের জন্য মোট ১১ জন পড়ুয়া প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়। প্রার্থীদের নামে ব্যালট পেপার ছাপিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।ভোটের সময় পড়ুয়ারা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে ভোটকক্ষে প্রবেশ করে। পোলিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয় তারা। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপার ভাঁজ করে ব্যালট বাক্সে জমা দেয় পড়ুয়ারা। পুরো প্রক্রিয়াই ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ব্যালট বাক্স খুলে ভোট গণনা করা হবে। নির্বাচনকে ঘিরে গোটা বিদ্যালয়জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব চ্যাটার্জি জানান, পড়ুয়ারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে ভোটের কথা শুনলেও ভোট দেওয়ার প্রকৃত পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পড়ুয়ারা হাতে-কলমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করল। এতে তাদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুন-
শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?