তারিক আনোয়ার, নয়া জামানা,বীরভূম: সিউড়ি হাটজনবাজার রেলওয়ে ওভারব্রিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকা জুড়ে খুশির আবহাওয়া। রবিরারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই দিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে রেলমন্ত্রী সিউড়ি হাটজনবাজার রেলওভারব্রিজ, কুমারপুর রোড ওভারব্রিজের উদ্বোধন করেন এবং আসানসোল–বোকারো ট্রেন পরিষেবার শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থেকে সিউড়ি হাটজনবাজার রেলওভারব্রিজের ফিতা কাটেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি গোটা ওভারব্রিজ জুড়ে পদযাত্রা করেন। এই ব্রিজ চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে হাটজনবাজার রেলগেটকে কেন্দ্র করে স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগী—সকলেই চরম দুর্ভোগে পড়তেন। ওভারব্রিজ চালু হওয়ায় লেভেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল এবং সিউড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হবে।এই ব্যস্ত রুটে লেভেল ক্রসিং গেট অপসারণের ফলে নিরাপত্তা বাড়বে, একই সঙ্গে সিউড়ি স্টেশনের আশেপাশে যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক ও স্থানীয় যাত্রীদের চলাচলের পাশাপাশি জরুরি যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই ওভারব্রিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বহু বাধা ও জটিলতার পর এই ব্রিজ চালু হল। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।অন্যদিকে, ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের রেলখাতে রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০০৯–১৪ সালের গড় বরাদ্দের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে রেল সংস্কারে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ৫২৩টি রেল ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে লেভেল ক্রসিং অপসারণ ও যানজট কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ট্রেন পরিষেবা চালুর মাধ্যমে রাজ্যের স্বল্প ও দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।
এদিন রেলের ওভারব্রিজের উপর পদযাত্রা শেষ করে ফিরে আসার সময় বিজেপি সমর্থকরা “জয় শ্রীরাম” এবং তৃণমূল সমর্থকরা “জয় বাংলা” স্লোগানে মুখরিত হন। তবে দুই পক্ষের স্লোগান সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা অশান্তি সৃষ্টি হয়নি।
আরও পড়ুন-
উটেরও এবার পাসপোর্ট! ভিশন ২০৩০–এ পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত