কার্তিক ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম: শনিবার বিশ্বভারতীর রথীন্দ্র অতিথি গৃহে বিশ্বভারতী চত্বরে কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিবেশ আদালতের (এনজিটি) নির্দেশের প্রেক্ষিতেই এই বৈঠক বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
এই দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের অধীনস্থ সুদার ডিরেক্টর, নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের যুগ্ম সচিব, মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটের ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ একাধিক আধিকারিক। পাশাপাশি বৈঠকে অংশ নেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, বোলপুরের এসডিও অনিমেষ কান্তি মান্না এবং বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধান পর্না ঘোষ। এই বৈঠকে বিশ্বভারতী চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় আদালতের গার্হস্থ হন।২০২০ সালে আদালত আইন মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাস্তবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটি ফের গতি পায়। মামলার চলাকালীন একাধিকবার আদালত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চাইলেও তা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। গত ডিসেম্বর মাসে এই কারণে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে ভর্ৎসনা ও জরিমানা করে আদালত। চলতি বছরের ২১শে জানুয়ারির শুনানিতে জেলা শাসক ও বিশ্বভারতীর কর্মসচিবকে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক শুনানিতেও সন্তোষজনক অগ্রগতির কথা জানানো না হওয়ায় আদালত উভয় পক্ষের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। শোকজ নোটিসও জারি করে। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্য করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ বা জেল হেফাজতের মতো কঠোর ব্যবস্থার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ৩০ মার্চ।
এই পরিস্থিতিতেই শনিবারের বৈঠকে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে বিশ্বভারতী চত্বরে বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বৈঠকে আগামী মার্চ মাসের আগেই কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম ধাপে সমীক্ষা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বোলপুর পৌরসভাকে। আগামী সোম ও মঙ্গলবার পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী চত্বরে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় কাজের ধরন ও আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এই প্রস্তাবিত ব্যয়ে সম্মতি মিললে পৌরসভাই বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ শুরু করবে। বিশ্বভারতীর নিজস্ব পরিকাঠামোর অভাবে আপাতত বোলপুর পৌরসভার মাধ্যমেই এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। নগর উন্নয়ন দপ্তর ও বোলপুর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কাজ বাস্তবায়িত হবে।
বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধান পর্না ঘোষ বলেন, এদিনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে সমীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমির পরিবেশ রক্ষায় বোলপুর পুরসভা সবরকম সহযোগিতা করবে।
অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের বক্তব্য, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন এই সমস্যা নিয়ে শীতঘুমে ছিল। এখন তাদের ঘুম ভেঙেছে। আশা করছি এবার তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন-
উটেরও এবার পাসপোর্ট! ভিশন ২০৩০–এ পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত