নয়া জামানা ডেস্ক : পাকিস্তানের মাটি যে আজও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের চারণভূমি, তা আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণিত হল। সম্প্রতি লাহোরে আয়োজিত এক জনসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হামলা চালানো এবং অখণ্ড ভারতকে খণ্ড-বিখণ্ড করার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিল লস্কর জঙ্গি সৈয়দ আব্দুল রহমান নকভি। লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত নকভি কেবল দিল্লি নয়, আগ্রা থেকে দাক্ষিণাত্য সর্বত্র আগুন জ্বালানোর উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছে।
কাশ্মীরকে মুক্ত করার ডাক দিয়ে নকভির এই আস্ফালন এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পাকিস্তান জুড়ে সরকারি মদতে পালিত হচ্ছে তথাকথিত কাশ্মীর সংহতি দিবস। আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তি ও ভারতের কড়া বার্তা উপেক্ষা করে প্রতি বছরের মতো এবারও ৫ ফেব্রুয়ারি এই দিনটি পালন করেছে ইসলামাবাদ। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে এবার পাকিস্তান সরকারকেই চরম আন্তর্জাতিক বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সরব হয়েছেন প্রবাসী কাশ্মীরিরা। ব্রিটেন, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কাশ্মীরি এবং এমনকি সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের একাংশও পাক সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা হিংসা, দমন-পীড়ন এবং নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতেই এই দিনটিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে পাক প্রশাসন। বিভিন্ন দেশে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে স্লোগান উঠেছে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ প্রথম এই দিনটির সূচনা করেছিলেন। প্রতি বছর এই দিনে পাকিস্তানে সরকারি ছুটি থাকে এবং রাজনীতিকরা এটিকে ভারতবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এবারও নকভির মতো জঙ্গি নেতাদের প্রকাশ্য জনসভা এবং নাশকতামূলক হুমকি প্রমাণ করল যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়ায় পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকড় কতটা গভীরে।
আরও পড়ুন-
ফের রণক্ষেত্র বাংলাদেশ! ইউনূসের বাসভবন ঘেরাও, পুলিশি অভিযানে আহত বহু