নয়া জামানা ডেস্ক : আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির জালে এবার আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ালেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। শুক্রবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা এই চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও নাম রয়েছে দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার। কাকতালীয়ভাবে, হাসপাতালের দুর্নীতির পর্দা প্রথম যিনি ফাঁস করেছিলেন, সেই প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির বিরুদ্ধেও এদিন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।তদন্তকারীদের দাবি, আরজি কর হাসপাতালে গত তিন বছর ধরে চলা দুর্নীতির নেপথ্যে ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র। ইডির চার্জশিটে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দিতেন সন্দীপ ঘোষ। বিপ্লব সিংহের ‘মা তারা ট্রেডার্স’ এবং সুমন হাজরার সংস্থা টেন্ডারে অংশ না নিয়েই হাসপাতালের সরঞ্জাম সরবরাহের বরাত পেয়ে যেত। সিবিআইয়ের পর এবার ইডির চার্জশিটেও এই ত্রয়ীর নাম আসায় তাঁদের জেল হেফাজত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। অন্যদিকে, মামলার মোড় ঘুরেছে আখতার আলিকে নিয়ে। সিবিআইয়ের পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে নাম ছিল তাঁর। অভিযোগ, সন্দীপের আমলের আগেও হাসপাতালের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বারংবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজিরা দেননি। আখতারের আইনজীবী অসুস্থতার যুক্তি দিলেও আদালত তাতে কর্ণপাত করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসক বিশ্রামের কথা বললেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয় আদালত। এদিন সন্দীপের আইনজীবীও সওয়াল করেন, ‘একই অভিযোগে সন্দীপকে জেল খাটতে হলে কেন আখতার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেও ছাড় পেয়ে যাবেন?’
তদন্তের সমান্তরাল স্রোতে এদিন কিছুটা স্বস্তিতে আরজি কর আন্দোলনের পরিচিত মুখ অনিকেত মাহাতো ও তাঁর সঙ্গীরা। মিছিলে যানজট তৈরির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। একদিকে যখন রাজপথের আন্দোলনকারীরা আইনি ছাড় পাচ্ছেন, অন্যদিকে তখন আরজি করের অন্দরমহলের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে একের পর এক রাঘববোয়ালদের জালে আটকাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আরও পড়ুন-