ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?

শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে চূড়ান্ত ডামাডোল তৈরি হয়েছে। খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হিড়িক এবং শুনানিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের গরহাজিরা নির্বাচন কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুনানির নোটিস....

শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে চূড়ান্ত ডামাডোল তৈরি হয়েছে। খসড়া তালিকা....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে চূড়ান্ত ডামাডোল তৈরি হয়েছে। খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হিড়িক এবং শুনানিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের গরহাজিরা নির্বাচন কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুনানির নোটিস পেয়েও হাজিরা দেননি চার লক্ষের ভোটার। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, যাঁদের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ যাবে, তাঁদের বাড়িতে কারণ দর্শিয়ে নোটিস পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ‘ভোটার তালিকা থেকে নাম কেন বাদ দেওয়া হল, তার কারণ-সহ নোটিস দেওয়া হবে।’

শনিবার ছিল রাজ্যে এসআইআর শুনানির নির্ধারিত শেষ দিন। কিন্তু উত্তর কলকাতা, মালদহ, কার্শিয়াং এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় কাজ এখনও অনেকটা বাকি রয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিচ্ছেন। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে নবান্ন ও কমিশন চত্বরে সংশয় দানা বেঁধেছে।

তথ্য বলছে, এ রাজ্যে ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জনকে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষের শুনানি শেষ হলেও এখনও ২২ লক্ষ মানুষের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। কার্শিয়াংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকায় কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগে থেকেই ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। নতুন করে ৫ লক্ষ গরহাজির ভোটার যুক্ত হলে এই সংখ্যাটা ৬৩ লক্ষে পৌঁছাতে পারে। তবে সিইও দফতর মনে করছে, পুরো তথ্য আপলোড সম্পন্ন হলে এই সংখ্যায় কিছুটা রদবদল হতে পারে।

এদিকে বাংলার পরিস্থিতির ঠিক বিপরীত ছবি ধরা পড়েছে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে। সেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটির দোরগোড়ায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উদ্বেগের সঙ্গে মেনে নিয়েছেন যে, বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশই তাঁদের দলীয় জনভিত্তির লোক। এই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সীমা এক ধাক্কায় এক মাস বাড়িয়ে ৬ মার্চ পর্যন্ত করেছে কমিশন। সেখানে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ১০ এপ্রিল। উত্তরপ্রদেশের এই ‘বিশেষ ছাড়’ নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি ছিল, বাংলা অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে বলেই ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শতাংশের বিচারে যোগীরাজ্যেই নাম বাদ যাওয়ার হার অনেক বেশি।

বাংলার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বড় চমক দিতে পারে সিইও দফতর। এবার তারা এক দফায় ভোট করানোর পক্ষে সওয়াল করতে চলেছে। ২০২১ সালে অতিমারি আবহে দীর্ঘ আট দফায় ভোট হওয়ায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবল সরব হয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘৩৯ লোকসভার রাজ্য তামিলনাড়ুতে যদি এক দফায় ভোট হতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গে কেন আট দফা প্রয়োজন?’ এবার সুর বদলেছে বিজেপিও। তারাও কম দফায় ভোট চাইছে। সিইও দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘এক দফায় ভোট হলে অসুবিধার কী আছে? আগেও এই রাজ্যে এক দফায় ভোট হয়েছে। এক দফায় ভোট করাতে আমরা প্রস্তুত।’

সংশোধন প্রক্রিয়ার শুরুতে নথিপত্র নিয়ে কমিশনের প্রবল কড়াকড়ি থাকলেও জনরোষ ও বাস্তব পরিস্থিতির চাপে পরে তা শিথিল করা হয়। বাড়ানো হয় শুনানিকেন্দ্র এবং আধিকারিকের সংখ্যাও। বর্তমানে দিনে প্রায় ৫ থেকে ৭ লক্ষ ভোটারের শুনানি হচ্ছে। ফলে সিংহভাগ কাজ এগিয়ে গেলেও ৪টি জেলার জট কাটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। যদি বাংলার এই চার জেলায় সময়সীমা বাড়ানো হয়, তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে ভোট ঘোষণা আরও দিনসাতক পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবমিলিয়ে, আসন্ন এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকার উপরই নির্ভর করছে বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি। ৭ তারিখ শনিবার শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই পাহাড়প্রমাণ তথ্য যাচাই করে তালিকা নির্ভুল করতে অন্তত সপ্তাহখানেক সময় নেবে কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই বহুপ্রতীক্ষিত তালিকা প্রকাশ্যে আসার কথা থাকলেও, চার জেলার জট খুলতে সময়সীমা বাড়লে ভোট-ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণও কি কিছুটা পিছিয়ে যাবে? কমিশনের অলিন্দে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সূত্রে খবর, শুধুমাত্র বিধানসভাভিত্তিক নাম পাঠানো হবে। শুনানিতে চার লক্ষাধিক ভোটার গরহাজির থাকলেও তথ্য আপলোডের পর সেই চিত্র পরিষ্কার হবে। এখন দেখার, দিল্লি শেষ পর্যন্ত বাংলার জন্য বাড়তি সময় বরাদ্দ করে নাকি নির্ধারিত সূচি মেনেই তালিকা প্রকাশে অনড় থাকে। বাংলার রাজনৈতিক দাবাখেলায় এই বাদ পড়া কয়েক লক্ষ ভোটার ঠিক কার ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ ধসিয়ে দেবে, তা নিয়ে এখন ঘুম ছুটেছে সব শিবিরেরই। সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারণী এই তালিকা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনার পারদ। ফাইল ফটো।

আরও পড়ুন-

নাম বাদ গেলে বাড়িতে হামলার আতঙ্ক ,মুর্শিদাবাদে মৃত্যু মহিলা বিএলও-র, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছেলের

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর