নুরউদ্দিন, নয়া জামানা, রায়দিঘী: লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে টাকার অঙ্ক বেড়ে ১,৫০০ টাকা হওয়ায় রায়দিঘী জুড়ে খুশির হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেন। ঘোষণার ঠিক পরদিনই শুক্রবার সকাল থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১,৫০০ টাকা করে জমা পড়তে শুরু করে। এতদিন যেখানে মহিলারা ১,০০০ টাকা পেতেন, সেখানে হঠাৎ দেড় হাজার টাকা হাতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা।
শুক্রবার সকালে মোবাইলে ব্যাঙ্ক মেসেজ আসতেই রায়দিঘীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কোম্পানিরঠেক বাজার, ব্লক চত্বর ও আশপাশের এলাকায় মহিলারা একত্রিত হয়ে আনন্দ উদযাপন করেন। কেউ সবুজ আবির মাখেন, কেউ মিষ্টিমুখ করান। অনেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রতীক মাথায় তুলে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, ঠিক তাই হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি অ্যাকাউন্টে ১,৫০০ টাকা জমা পড়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান উপভোক্তারা।
এই আনন্দে শুধু মহিলারাই নন, রায়দিঘীর সাধারণ মানুষও সামিল হন। রাস্তায় রাস্তায় টোটো চালক, অটো চালক, দোকানদার থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান। গোটা এলাকাজুড়ে যেন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হবে। এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য উদয় হালদার। তিনি বলেন, দেশের বহু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও কোথাও লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প চালু হয়নি। বিজেপি যদি সত্যিই মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে চাইত, তবে সারা দেশেই এই প্রকল্প চালু করত। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মায়েদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে ভাঁওতাবাজি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বাড়তি টাকায় রায়দিঘীর ঘরে ঘরে এখন শুধুই হাসি