নয়া জামানা : ওমানে শুক্রবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা। ঠিক তার আগ মুহূর্তে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ওমানের মাসকাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই আলোচনা যখন উত্তেজনা কমানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের এই চরম বার্তা গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে উসকে দিয়েছে।
ইরানে আমেরিকার কোনও সক্রিয় দূতাবাস না থাকায় তেহরানের জন্য নির্ধারিত ভার্চুয়াল দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এই নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকেরা যেন বিলম্ব না করে এখনই ইরান ত্যাগ করেন। যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনে আর্মেনিয়া বা তুরস্কের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা এই মুহূর্তে দেশ ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের দ্রুত কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন কোনও বিশেষ বিমানে বা সরাসরি সহায়তায় নাগরিকদের সরিয়ে আনবে না। তাঁদের নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপদ বোধ করলে দেশ ছাড়তে হবে। এছাড়া পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইরান ও আমেরিকার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের ইরানের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সীমান্ত পার হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনও ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি বা জমায়েত থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত দেড় মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা চরমে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যার জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইও পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছেন। এই সংঘাত এড়াতে ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বৈঠকে বসছেন আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী।