নয়া জামানা, নয়া দিল্লি : বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পশ্চিম এশিয়ার ছয় দেশের জোট জিসিসি-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করল ভারত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরিন—এই ছয়টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জিসিসি-র সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির ফলে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান হবে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত, যা ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এই আলোচনা শুরুর প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই বৈঠক শেষে ভারতের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। এফটিএ কার্যকর হলে এই অঙ্ক বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের মতে, এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী দেশ, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, জিসিসি দেশগুলো মূলত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উৎস, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ফলে ভারতীয় কৃষিপণ্য, টেক্সটাইল এবং রত্ন-অলঙ্কার পশ্চিম এশিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্স ভারতের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ভারতকে কেবল মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলো ভারতের জন্য বিশাল সুযোগ নিয়ে আসছে। স্যাক্স মনে করেন, চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার এই জোট ভারতের অর্থনীতির বহর বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ঘোষণা এবং এখন জিসিসি-র সঙ্গে এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, ভারত কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। কৌশলগতভাবে পশ্চিম এশিয়া ভারতের জন্য কেবল জ্বালানি আমদানির উৎস নয়, বরং সেখানে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় অভিবাসীর কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্র হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শোকের পাহাড় বুকে চেপে কর্তব্যের কাঠগড়ায়, নিথর স্ত্রী-সন্তানকে মর্গে রেখেই শুনানিতে শিক্ষক;