ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • সুপ্রিম জয়ে ধর্মতলার মঞ্চে বিলি গুড়-বাতাসা; মমতা ভুল প্রমাণিত, ডিএ নিয়ে তোপ শুভেন্দুর

সুপ্রিম জয়ে ধর্মতলার মঞ্চে বিলি গুড়-বাতাসা; মমতা ভুল প্রমাণিত, ডিএ নিয়ে তোপ শুভেন্দুর

নয়া জামানা, কলকাতা : দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী....

সুপ্রিম জয়ে ধর্মতলার মঞ্চে বিলি গুড়-বাতাসা; মমতা ভুল প্রমাণিত, ডিএ নিয়ে তোপ শুভেন্দুর

নয়া জামানা, কলকাতা : দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। বকেয়া....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

নয়া জামানা, কলকাতা : দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই ঐতিহাসিক রায় প্রকাশ্যে আসতেই খুশির জোয়ার আছড়ে পড়েছে ধর্মতলার শহিদ মিনারের তলায় আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের অবস্থানমঞ্চে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা পরস্পরকে লাড্ডু খাইয়ে মিষ্টিমুখ করেন। জয়ে উল্লসিত কর্মীরা স্লোগানে ভরিয়ে দেন চত্বর। তবে এই আংশিক জয়ের আনন্দ থাকলেও লড়াইয়ের সুর এখনও চড়া কর্মীদের গলায়।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বকেয়া এরিয়ারের ২৫ শতাংশ সুনিশ্চিত হলেও কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান যে ৪০ শতাংশের ফারাক, তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত দিশা মেলেনি। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করছেন বামপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতারা। সংগঠনের নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী স্পষ্ট জানান, ‘বকেয়া এরিয়ারের ২৫ শতাংশ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে দিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এখনও আমাদের ৪০ শতাংশ বকেয়া ডিএ (কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র ফারাক) প্রাপ্য রয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার লড়াই করে বুঝে নেব।’ অর্থাৎ আদালত কক্ষ থেকে লড়াই এখন ফের রাজপথের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তথা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এই রায়কে স্বাগত জানালেও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দিহান। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের চাপ বজায় রাখা জরুরি। ভাস্করের কথায়, ‘আমরাও যাতে কমিটির সঙ্গে বসতে পারি, সেই আবেদন করব। সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্য যে মোটেই খারাপ নয়, বরং (ডিএ) দেওয়া যায়— আমরা সেই তথ্য তুলে ধরব।’ অতীতেও ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে কর্মীদের। তাই এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ভাস্কর বলেন, ‘কর্মচারীসমাজ পথে না-নামলে এই ২৫ শতাংশ তাঁরা পাবেন না। ৩১ মার্চের মধ্যে ঘাড় ধরে সরকারকে এই রায় মানতে বাধ্য করব।’

রাজনৈতিক মহলেও এই রায় নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের পাশে থাকা শুভেন্দু বলেন, ‘ডিএ মামলায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করল সুপ্রিম কোর্ট।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো মন্তব্যের রেশ টেনে তাঁর তোপ, “ আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বারংবার তিনি বলে এসেছেন যে, ‘ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়’। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল যে, ডিএ হল কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার। কোনও অনুদান নয়। ’’ তাঁর দাবি, কর্মীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে গিয়ে আইনি লড়াইয়ের নামে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছে রাজ্য সরকার।

একই সুরে জয়ের বার্তা দিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের নেতা স্বপন মণ্ডলের দাবি, এই জয় দেশজুড়ে কর্মচারীবিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে এক বড় ধাক্কা। তাঁর মতে, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। এটাই হওয়ার ছিল। দীর্ঘ দশ বছরের লড়াইয়ের পর এই জয় শুধু আমাদের রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারীদের জয় নয়, সারা দেশের কর্মচারীদের জয়। আর কোনও রাজ্য সরকার এই জঘন্য কর্মচারীবিরোধী সরকারের পথ অনুসরণ করতে সাহস পাবে না।’

পাল্টা আত্মপক্ষ সমর্থনে নেমেছে তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক আদালতের নির্দেশ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন ডিএ দিতে অস্বীকার করেননি। প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। মুখ্যমন্ত্রী তো কোনও দিন বলেননি যে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেবেন না। আমাদের বিশ্বাস সময়-সুযোগ বুঝে তিনি নিশ্চয়ই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র দাবি পূরণ করতেন। কিন্তু এখন যখন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তখন রাজ্য সরকার যে ভাবে সেই নির্দেশ পালন করবে, সেই প্রক্রিয়ার পাশে আমরা থাকব।’ সব মিলিয়ে, আদালতের নির্দেশের পর আপাতত বল নবান্নের কোর্টে। ৩১ মার্চের সময়সীমা রাজ্য সরকার কীভাবে রক্ষা করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর