নয়া জামানা, কলকাতা : ভোটের বাদ্যি বাজতেই বাংলায় এখন সব লড়াইয়ের কেন্দ্রে সেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাসকে হাতিয়ার করেই এবার আসরে নেমেছে রাজ্যের বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে টাকার অঙ্কের তীব্র প্রতিযোগিতা। কে ক্ষমতায় এলে কত বেশি টাকা দেবেন, তা নিয়ে এখন রীতিমতো তরজায় জড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, হুমায়ুন কবীর এবং নওশাদ সিদ্দিকি। শাসক দলের মাস্টারস্ট্রোককে পাল্টা দিতে বিরোধীরাও এখন ভাতার রাজনীতিতেই সওয়ার।
রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বড় ঘোষণা করেছেন। এখন থেকে সাধারণ মহিলারা মাসে ১০০০ টাকার বদলে পাবেন ১৫০০ টাকা। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তদের জন্য সেই অঙ্ক ১২০০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭০০ টাকা। সরকারি এই ঘোষণার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল যখন এই প্রকল্পকে মহিলাদের স্বনির্ভরতার হাতিয়ার বলছে, বিরোধীরা তখন একে ‘ভোট টানার ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিন্দা করলেও গদি দখল করতে সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।
বিজেপির অন্দরে এই অঙ্ক নিয়ে আগে থেকেই চর্চা ছিল। সুকান্ত মজুমদার আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তৃণমূলের ভাতার অঙ্ককে ছাপিয়ে যেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। পিছিয়ে নেই হুমায়ুন কবীরের নয়া দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ও। হুমায়ুন সাফ জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতায় এলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা এবং আবাস যোজনায় ২ লক্ষ টাকা দেব।’
টাকার এই লড়াইয়ে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি যেন বাকিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে চাইছেন। দান-খয়রাতির রাজনীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে নওশাদের মন্তব্য, ‘আমি ৫০০০ টাকার পক্ষে।’ অর্থাৎ যে প্রকল্পের সমালোচনা করে বিরোধীরা সরব হন, সেই প্রকল্পের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়েই এখন ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে যাই বলা হোক না কেন, বাংলার ভোট বৈতরণী পার হতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প নেই—তা মেনে নিচ্ছেন সব দলের নেতারাই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দেওয়া বাড়তি ৫০০ টাকা নিয়ে যখন আমজনতার মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন সেই উন্মাদনায় জল ঢালতে বিরোধীরা এখন কয়েক হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি বিলি করছেন। শেষ পর্যন্ত কার ডাল ভারি হয়, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ঘিরেই সরগরম বাংলার রাজনীতি।