সীতারাম মুখার্জি, নয়া জামানা ,সালানপুর : ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এমনকি কোনও রাজনৈতিক দলই তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। কিন্তু তার ঢের আগেই পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার। আসানসোলের মেয়র তথা বর্তমান বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের সমর্থনে সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক শোরগোল।
সালানপুর ব্লকের একাধিক জায়গায় দেওয়ালে দেখা যাচ্ছে ২০২৬-এ আবারও বিধান উপাধ্যায়। কোথাও তাঁকে ঘরের ছেলে ও কাজের ছেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোথাও সরাসরি তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী করার আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের দাবি, বিধান উপাধ্যায় বারাবনির সাধারণ মানুষের আবেগের প্রতীক। তাঁর হাত ধরে এলাকায় যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই অতি উৎসাহী কর্মীরা দলের অনুমতির তোয়াক্কা না করে প্রচারে নেমে পড়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তাঁরা আগামী নির্বাচনেও তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।
এই আগাম দেওয়াল লিখন নিয়ে খোদ তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেই মিশ্র সুর শোনা যাচ্ছে। সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং বলেন, দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে বিধান উপাধ্যায় কর্মীদের কাছে কেবল বিধায়ক নন, তিনি একজন ভরসার জায়গা। কর্মীদের এই আবেগকে তো আর বারণ করা যায় না।অন্যদিকে, বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় নিজে এই ঘটনায় কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই কাজ করা উচিত হয়নি। দল যখন নাম ঘোষণা করবে, তখনই প্রার্থীর নাম লেখা বিধেয়।
নির্বাচনের অনেক আগেই শাসক দলের এই তৎপরতাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং নিয়ম না মানার স্পষ্ট উদাহরণ। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই মনোনীত তকমা ব্যবহার করা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।