দীপঙ্কর দোলাই, নয়া জামানা , কলকাতা : সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের আমজনতা থেকে সরকারি কর্মী সব পক্ষকেই খুশি করতে কার্যত কল্পতরু হয়ে ধরা দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বাজেটে যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা একধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তেমনই শিক্ষিত বেকারদের জন্য বাংলার যুব সাথী নামে নতুন মাসিক ভাতার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে।পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি ও সপ্তম পে কমিশন গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য।
বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার :
২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের স্বনির্ভর করতে মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিলেন। বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার থেকে এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।জেনারেল মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকার বদলে এখন থেকে পাবেন ১৫০০ টাকা।
এসসি ও এসটি মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকার বদলে এখন পাবেন ১৭০০ টাকা।চলতি মাস থেকেই এই বর্ধিত টাকা মহিলাদের হাতে পৌঁছাবে। বর্তমানে রাজ্যে এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লক্ষ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের সাধারণ গৃহবধূদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যুব সাথী প্রকল্প :
বেকারদের জন্য বাংলার যুব সাথী প্রকল্প রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের জন্য বড় ঘোষণা করেছে সরকার। বাংলার যুব সাথী নামক এই নতুন প্রকল্পের অধীনে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।২১ থেকে ৪০ বছর।কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বছর এই সুবিধা পাওয়া যাবে।আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং এর জন্য বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যারা অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পান না, তারাই এই আবেদন করতে পারবেন।
ডিএ বৃদ্ধি ও সপ্তম পে কমিশন :
দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ প্রশমনে বাজেট ভাষণে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই নতুন হার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনেরও ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক এখনও ৩৬ শতাংশ রয়ে গেল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এদিনই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা বাকি বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করবে। ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা মেটানোর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মমতার তৃতীয় মেয়াদের এটিই শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ছুঁতে চাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত বরাদ্দ এবং শিক্ষিত যুবকদের জন্য মাসিক ভাতা নির্বাচনের আগে শাসক দলের ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।