নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এল বড় জয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ কোনও দয়া নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে রাজ্যকে মেটাতে হবে। এই অর্থ মেটানোর জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম কিস্তির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের এই রায় রাজ্য প্রশাসনের ওপর বড়সড় আর্থিক ও আইনি চাপ তৈরি করল বলে মনে করছে অনেকেই।
আদালত জানিয়েছে, ডিএ যেহেতু একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, তাই সামগ্রিক বকেয়া মেটানোর রূপরেখা তৈরি করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার নির্দেশ ও দেয়। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হবে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন,ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তরলোক সিং চৌহান।ছত্তিশগড় হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌতম ভাদুরি।ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা তাঁর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র আধিকারিক।
এই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বকেয়ার পরিমাণ কত হবে এবং তা কোন সময়সীমার মধ্যে মেটানো সম্ভব। আগামী ১৫ মে-র মধ্যে কমিটিকে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে হবে। রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত লজিস্টিক্যাল সুবিধা নিশ্চিত করতে।
কলকাতা হাইকোর্ট আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। এর আগে শীর্ষ আদালত ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর জন্য ৬ সপ্তাহ সময় দিলেও রাজ্য তা পালন করেনি, উল্টো আরও ৬ মাস সময় চেয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত ছিল।
আজ রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারপতিরা রাজ্যের টালবাহানায় উষ্মা প্রকাশ করেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মে মাসের মধ্যে দুই দফায় বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে কমিটির তৈরি করা সূচি মেনে রাজ্যকে নিয়মিত ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে।
এই রায় ঘোষণার পর খুশির হাওয়া কর্মী মহলে। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, আজ বিচারপতিরা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট বলেছে, ডিএ দিতেই হবে। এটি কর্মচারীদের নৈতিক ও আইনি জয়।
তবে জয় এলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ যদি রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর না করে,তবে আগামী দিনে আমরা আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।