নয়া জামানা ডেস্ক : ট্রাম্পের দাবির তিন দিন পর নীরবতা ভাঙল সাউথ ব্লক। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে সরাসরি উচ্চবাচ্য না করলেও মোদী সরকার সাফ জানিয়ে দিল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থই তাদের কাছে সবার আগে। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তবে রাশিয়ার নাম না নিলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানির উৎস যে বহুমুখী করা হবে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে দিল্লি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের পরেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বৃহস্পতিবার রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বা উৎস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে, সরকার আগেও বেশ কয়েক বার প্রকাশ্যে বার্তা দিয়েছে। আমিও এখানে বলছি, যে ১.৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ নয়াদিল্লি এদিন তাদের বিদেশনীতিতে দেশের মানুষের চাহিদাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। রণধীর জয়সওয়াল আরও যোগ করেন, ‘বাজারের অভিমুখ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জ্বালানির উৎসের (এ ক্ষেত্রে আমদানির) বৈচিত্র্য আনা আমাদের কৌশলের মূল বিষয়। ভারতের সমস্ত সিদ্ধান্ত এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্পের দাবি ছিল যে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মতো মিত্র দেশগুলি থেকেই ভারত এবার বেশি তেল কিনবে। কিন্তু মস্কো আগেই জানিয়েছিল যে ভারতের থেকে আমদানির বিষয়ে তারা কোনও নেতিবাচক বার্তা পায়নি। দিল্লির এই প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ না করা হলেও, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত আসলে কৌশলে নিজের অবস্থানেই অনড় থাকল।