ব্রেকিং
  • Home /
  • দেশ /
  • অধিকারের ডিএ-তে সুপ্রিম সিলমোহর, বাকি ৭৫ % বকেয়া মেটাতে নয়া কমিটি

অধিকারের ডিএ-তে সুপ্রিম সিলমোহর, বাকি ৭৫ % বকেয়া মেটাতে নয়া কমিটি

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এল বড় জয়। মহার্ঘভাতা বা ডিএ কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, বরং এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ....

অধিকারের ডিএ-তে সুপ্রিম সিলমোহর, বাকি ৭৫ % বকেয়া মেটাতে নয়া কমিটি

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এল বড় জয়। মহার্ঘভাতা বা ডিএ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এল বড় জয়। মহার্ঘভাতা বা ডিএ কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, বরং এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। আগের দেওয়া অন্তর্বর্তী রায় বহাল রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, এই অর্থ মেটাতে আর দেরি করা চলবে না। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া কীভাবে মেটানো হবে, তার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গড়ে দিয়েছে আদালত।

আদালতের নির্দেশে স্বস্তি ফিরলেও রাজ্যের আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিএ বকেয়া রয়েছে, বর্তমান নির্দেশ কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে ডিএ-র ফারাক রয়েছে, তার সঙ্গে এই রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজ্য বারবার ‘আর্থিক বোঝা’র যুক্তি দিলেও আদালত কর্মীদের ন্যায্য পাওনাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে কমিটিকে বকেয়া মেটানোর রূপরেখা জানাতে হবে এবং প্রথম কিস্তির টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে রাজ্যকে।

বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশ মেটানোর বিষয়টি দেখভালের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন শীর্ষ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র। কমিটিতে থাকছেন ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তরলোক সিংহ চৌহান, ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি এবং সিএজি-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এই কমিটি মূলত তিনটি কাজ করবে। প্রথমত, মোট কত টাকা বকেয়া আছে তা নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, কত কিস্তিতে সেই টাকা দেওয়া সম্ভব তা স্থির করা এবং তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না তা যাচাই করা।

কাদের কপালে জুটবে এই বকেয়া? আদালত জানিয়েছে, ২০২০ সালের আগে থেকে কর্মরত সমস্ত কর্মচারী এবং ওই সময়ে অবসরপ্রাপ্তরা এই সুবিধা পাবেন। তবে ২০০৯ সালের পর যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরাও আনুপাতিক হারে বকেয়া পাবেন। যেমন, কেউ যদি ২০১৪ সালে কাজে যোগ দিয়ে থাকেন, তবে তিনি ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদের বকেয়া পাবেন। কিন্তু ২০১৯ সালের পরে যাঁরা কাজে ঢুকেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ খাটবে না। আদালত কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, ডিএ নির্ধারণ করতে হবে ‘অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার্স প্রাইস ইনডেক্স’ (এআইসিপিআই) অনুযায়ী। রাজ্য সরকার নিজের খেয়ালখুশি মতো এর হিসাব কষতে পারবে না।

ডিএ মৌলিক অধিকার কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট এখনই সেই তর্কে ঢুকতে চায়নি। আদালত জানিয়েছে, এই মামলায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি, তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না। তবে রোপা আইন যেহেতু এআইসিপিআই-এর ওপর নির্ভরশীল, তাই বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড মানা বাধ্যতামূলক। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ এপ্রিল। তার আগে ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি মিটিয়ে রাজ্যকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এই রায়কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বারংবার তিনি বলে এসেছেন যে, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল যে, ডিএ হল কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার। কোনও অনুদান নয়।’ অন্যদিকে, আন্দোলনরত কর্মীরা একে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে দাবি করেছেন। তৃণমূল শিবিরের দাবি, হাইকোর্ট যেখানে সব টাকা দ্রুত মেটানোর কথা বলেছিল, সেখানে সুপ্রিম কোর্ট কিস্তিতে মেটানোর সুযোগ দিয়ে সরকারের ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ফাইল ফটো ।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর