ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • ভাঙড়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেহাল দশা, ডাক্তার ছাড়াই চিকিৎসায় আতঙ্ক

ভাঙড়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেহাল দশা, ডাক্তার ছাড়াই চিকিৎসায় আতঙ্ক

ইয়ামুদ্দিন সাহাজী,নয়া জামানা, ভাঙড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে অবস্থিত ভাঙড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। যে কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার কথা, সেখানে কার্যত ডাক্তারহীন অবস্থায় চলছে চিকিৎসা। নেই স্থায়ী অ্যালোপ্যাথি....

ভাঙড়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেহাল দশা, ডাক্তার ছাড়াই চিকিৎসায় আতঙ্ক

ইয়ামুদ্দিন সাহাজী,নয়া জামানা, ভাঙড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে অবস্থিত ভাঙড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

ইয়ামুদ্দিন সাহাজী,নয়া জামানা, ভাঙড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে অবস্থিত ভাঙড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। যে কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার কথা, সেখানে কার্যত ডাক্তারহীন অবস্থায় চলছে চিকিৎসা। নেই স্থায়ী অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক, নেই ফার্মাসিস্ট—ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন থাকলেও তার চারপাশে জমে রয়েছে নোংরা আবর্জনা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জ্বর, সর্দি, গ্যাস, শরীর ব্যথা সহ নানা সমস্যায় ভোগা রোগীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন। কিন্তু এসে তাঁরা দেখছেন, চিকিৎসক তো দূরের কথা, ওষুধ দেওয়ার নির্দিষ্ট কর্মীও নেই।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত চালাচ্ছেন একজন গ্রুপ ডি কর্মী। রোগীর নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে ওষুধ দেওয়া, এমনকি প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবাও তিনিই সামলাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে ওই কর্মীর প্রতিক্রিয়া—“ক্যামেরা বন্ধ করুন, সব বলছি”—পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এদিন আরও একটি ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। রাস্তায় খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয় এক নাবালক। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে ভাঙড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। কিন্তু তখনও কোনও ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ডি কর্মী শিশুটিকে প্রাথমিকভাবে দেখে পরিস্থিতি গুরুতর মনে করে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে ডেকে আনেন।
ওই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক নিজেকে দ্বিতীয় মেডিকেল অফিসার বলে পরিচয় দেন এবং জানান, প্রয়োজনে তাঁকে মাঝেমধ্যে ডাকা হয়। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কীভাবে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা দিচ্ছেন? রোগীদের একাংশ ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আমরা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্য চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।” যদিও কয়েকজন রোগী দাবি করেছেন, তাঁরা চিকিৎসায় উপকার পেয়েছেন।
এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তবে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ভাঙড়ের মতো জনবহুল এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন বেহাল অবস্থা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর