রাকেশ লাহা, নয়া জামানা,আসানসোল : বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা, দুর্গাপুর এবং আসানসোলের একাধিক ঠিকানায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। এই অভিযানের সবথেকে বড় সাফল্য মিলেছে আসানসোলের জামুরিয়ায়। সেখানে এক ব্যবসায়ীর ডেরা থেকে নগদ প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ কয়লা পাচারের নাকি এর নেপথ্যে কোনও বড় মাপের হাওয়ালা চক্র কাজ করছে কি না , তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এদিন আসানসোলের রানিগঞ্জ ও জামুরিয়া এলাকায় একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডি আধিকারিকরা। নজরে ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজেশ বনসাল এবং তাঁর দুই ছেলে সুমিত ও অমিত বনসাল। জামুরিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের বাড়ি, পাঞ্জাবি মোড়ের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং সংলগ্ন গুদামে তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি আধিকারিকরা ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে বেশ কয়েকজন ব্যাঙ্ক কর্মীকে ডেকে পাঠান। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে তিনটি মুখ বন্ধ বস্তা বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায় তদন্তকারীদের। যদিও ইডি-র তরফে সরকারিভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে সূত্রের দাবি— ওই বস্তাগুলিতে উদ্ধার হওয়া দেড় কোটি টাকা এবং প্রচুর পরিমাণে সোনা ছিল।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজেশ বনসালরা দীর্ঘ সময় ধরে কয়লা বিক্রির কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁরা সরাসরি টাকা লেনদেন করতেন না।

রাজেশ বনসালের ট্রেডিং সংস্থা মূলত কয়লা কারবারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত।কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করতে এই ব্যবসায়ীরা তাঁদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগে আসানসোল-রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে ইডি-র এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ধারণা, কয়লা পাচারের লভ্যাংশ নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হচ্ছিল কি না, তাও তদন্তের বিষয়। পাশাপাশি, লেনদেনের ধরনে হাওয়ালা যোগের জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন গোয়েন্দারা।
এদিন দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, বনসালদের বাড়ি ও গুদাম থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস কী এবং এর সঙ্গে কয়লা মাফিয়াদের সরাসরি কী সম্পর্ক, তা জানতে ধৃত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।