ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • দুই হাতের আঙুল নয় সুগঠিত! শারীরিক অক্ষমতা পেরিয়ে রাইটার ছাড়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় শান্তিপুরের বর্ষা

দুই হাতের আঙুল নয় সুগঠিত! শারীরিক অক্ষমতা পেরিয়ে রাইটার ছাড়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় শান্তিপুরের বর্ষা

নয়া জামানা , নদীয়া : জীবন যুদ্ধে হার নয়, না কোন আপোস। শারীরিক অক্ষমতা যে বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি বিচার করে না তার একটা উজ্জ্বল নিদর্শন হলো এই বছরের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বর্ষা শর্মা। শান্তিপুরের বাসিন্দা বর্ষা শর্মা রাধারানী নারী শিক্ষা মন্দির....

দুই হাতের আঙুল নয় সুগঠিত! শারীরিক অক্ষমতা পেরিয়ে রাইটার ছাড়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় শান্তিপুরের বর্ষা

নয়া জামানা , নদীয়া : জীবন যুদ্ধে হার নয়, না কোন আপোস। শারীরিক অক্ষমতা যে বুদ্ধিমত্তার....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

নয়া জামানা , নদীয়া : জীবন যুদ্ধে হার নয়, না কোন আপোস। শারীরিক অক্ষমতা যে বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি বিচার করে না তার একটা উজ্জ্বল নিদর্শন হলো এই বছরের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বর্ষা শর্মা। শান্তিপুরের বাসিন্দা বর্ষা শর্মা রাধারানী নারী শিক্ষা মন্দির এর দশম শ্রেণীর ছাত্রী এবং এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। জন্মের পর থেকেই বর্ষা শারীরিকভাবে স্বাভাবিক নয়। তার দুহাতের আঙ্গুল প্রায় নেই বললেই চলে এমনকি তার মুখের সঙ্গে জিভও মাংসপেশির সঙ্গে যুক্ত। তবুও এই প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সে এগিয়ে চলেছে শিক্ষার আলোয়। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী বর্ষার সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত তার পাশে রয়েছে গৃহ শিক্ষক থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক- শিক্ষিকারা। বর্ষার পছন্দের বিষয় হলো বাংলা।যদিও ভৌতবিজ্ঞানে রয়েছে তার হালকা ভীতি। তাই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে ভৌত বিজ্ঞানের উপর আরো বেশি করে মনোযোগ দিচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকা এবং নাচ উভয়ের প্রতি একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বর্ষার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক নৃত্য ও অংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বর্ষা একাধিকবার পুরস্কৃতও হয়েছে। এই বছর কোনরকম রাইটার ছাড়াই সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে নিজে হাতে লিখে। বর্ষার বাবা মনোজিৎ শর্মা জানান জন্মের মাত্র ১৫ দিনের মাথাতেই তাকে নিয়ে কলকাতায় যেতে হয়। সেখানকার বিশিষ্ট ডাক্তাররা তাকে জানান যে বর্ষার বয়স পনেরো ষোলো বছর হওয়া পর্যন্ত তারা দেখতে চান আদৌ তার শারীরিক অক্ষমতা গুলি বৃদ্ধি পায় কিনা। তার পরবর্তীতে বিশেষ করে তার জিভ যেটা আসলে পরিপূর্ণ জিভ নয় একটি মাংসের দলা বিশেষ- সেটাকে অপারেশন করার কথা ভাবা যাবে। তাই তার বাবা সহ পরিবারের সকলেই বর্ষার মনোবল বাড়াতে যথেষ্ট একাগ্র। তার পরিবারের বিশ্বাস সেই বছর পরীক্ষায় যথেষ্ট ভালো ফলাফল করবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মনোজিৎ শর্মা জানান মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা প্রদান করেছেন এই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে যারা পড়তে চায় কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার জেরে সেই সাহস পায় না। বর্ষা ভবিষ্যতে আর্টস নিয়েই পড়াশোনা করতে চায়। সমাজ সেবায় সে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়। পেশাদারিত্বের দিক থেকে বর্ষা ব্যাংকের চাকুরি করতে ইচ্ছুক। বর্ষার এই অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও পরিশ্রম সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা ও ভবিষ্যতের সমস্ত পরীক্ষায় জয় লাভ করার ক্ষেত্রে বর্ষাকে শুভকামনা জানাচ্ছে সকলে।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর